ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিশুর সুস্বাস্থ্যে মায়ের বুকের দুধের বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মায়ের বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের পর প্রথম ৪-৫ মাস একটি শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের প্রধান উৎসই মাতৃদুগ্ধ। একই সঙ্গে প্রসবের পরপরই শিশুকে শালদুধ খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি প্রোটিনের সর্বোচ্চ ভাণ্ডার।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগমান’ প্রতিপাদ্যে মাতৃদুগ্ধ পান বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার বেড়ে যাওয়া এবং সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু শালদুধ ও মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে মাতৃদুগ্ধপানের বিষয়ে জনসচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
বিগত সময়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষকে সচেতন করার মতো কার্যকর সভা-সেমিনার আয়োজন করা হয়নি। এখন থেকে এক বছরের কর্মসূচি গ্রহণ করে প্রতি মাসে অন্তত একটি জেলায় সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে মাতৃদুগ্ধপানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে বাধ্যতামূলক উদ্যোগ নিতে হবে। এতে মানুষের সচেতনতা বাড়বে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদ ও সুস্থভাবে গড়ে উঠবে এবং শিশু মৃত্যুর হারও কমে আসবে।
শিশুখাদ্য ও মাতৃদুগ্ধের বিকল্প খাদ্য প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প খাদ্য নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে। বাজারে প্রচলিত গুঁড়ো দুধের তুলনায় ঘরে তৈরি সুষম খাবার শিশুদের জন্য অনেক বেশি উপযোগী। ছয় মাস বয়সের পর চালের খুদ, ডাল, আলু ও শাক-সবজি দিয়ে প্রস্তুত খিচুড়ি জাতীয় পথ্যই শিশুদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত খাবার।
মায়েদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আল্লাহর দেওয়া মাতৃদুগ্ধের নিয়ামত থেকে সন্তানকে কোনোভাবেই বঞ্চিত করা উচিত নয়। মা যখন শিশুকে বুকে আগলে রাখেন, তখন শিশুও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা অনুভব করে এবং কান্না থেমে যায়। তাই কৃত্রিম বিকল্পের পরিবর্তে প্রকৃতির এই স্বাভাবিক উপহারই শিশুকে দেওয়া প্রয়োজন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম রোগীদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অনেক মা নিজের অপুষ্টির কথা বলে সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখেন, যা একেবারেই অনুচিত। অল্প বয়সে বিয়ে, অসচেতনতা এবং শিশুদের মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত করার কারণেই পুষ্টিহীনতা বাড়ছে।
স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে যেতে টিকিট কাটবেন যেভাবে
- ভাতা-উপবৃত্তির আবেদন শুরু, জেনে নিন পদ্ধতি
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- এক ক্লিকে জেনে নিন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ও ফিচার
- নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
- পাঁচ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দিল সরকার
- আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)
- কবে হবে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, জানা গেল যা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ আগস্ট)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ আগস্ট)
- রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড: ঢাবির কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
- কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ স্কলারশিপে আবেদন শুরু
- পিএসসিতে আরও চার সদস্য নিয়োগ
- প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ভাইভা শুরুর নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর