ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

জামায়াতের জোটে থাকছে না এনসিপি?

২০২৬ জুলাই ২৯ ১২:৪৫:৪১

জামায়াতের জোটে থাকছে না এনসিপি?

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক জোটে ভাঙনের ইঙ্গিত ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। এরই মধ্যে খেলাফত মজলিস জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। এবার জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)ও জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের চিন্তা করছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল এনসিপির অভ্যন্তরে বর্তমানে জোটের রাজনীতির সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে কওমি ঘরানার ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিকল্প জোট গঠনের সম্ভাবনাও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এনসিপির একাধিক নেতার ভাষ্য, দলটির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য একটি বৃহৎ জাতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা। তাদের মতে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকলে সেই পরিসর সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে নতুন কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠলে সেখানে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকার সুযোগ তৈরি হবে।

গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র আওতায় ইসলামপন্থী দলগুলোর ভোট একত্রিত করার লক্ষ্য নিয়ে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল রাজনৈতিক মোর্চা গঠন করে। পরে এনসিপি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও এলডিপি যুক্ত হলে সেটি ১১-দলীয় জোটে রূপ নেয়। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচন শুরুর আগেই জোট ত্যাগ করে। এরপর জামায়াতের নেতৃত্বে বাকি দলগুলো নির্বাচন করলেও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নেতৃত্ব, রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে জোটের অভ্যন্তরে অস্বস্তি বাড়তে থাকে।

গত ২৫ জুলাই খেলাফত মজলিসের আনুষ্ঠানিক বিদায়ের পর সেই অস্বস্তি আরও দৃশ্যমান হয়েছে। এখন এনসিপিও নিজেদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করছে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জামায়াতের সঙ্গে থাকা কিংবা নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে যুক্ত হওয়ার দুই সম্ভাবনাই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

দলের একাধিক সূত্রের দাবি, কওমি ঘরানার ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের একাধিক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে একসঙ্গে পথচলা, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগত অংশগ্রহণ, সংস্কার, বিচার এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সমন্বয়ের বিষয় নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন সমঝোতায় এনসিপির ভূমিকা কী হবে, সেটিও আলোচনায় এসেছে।

এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’-এর একজন সদস্য আগামীর সময়কে বলেন, কওমি ঘরানার কয়েকটি দলের সঙ্গে সংস্কার, বিচার ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা কিংবা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির বিষয়টিও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। জুলাইয়ের কর্মসূচি শেষ হলে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার মতে, জামায়াতের সঙ্গে তাদের ঐক্য মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক নির্বাচনী সমঝোতা ছিল। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে অন্তত ঢাকার একটি সিটিতে সমঝোতার চেষ্টা হলেও জামায়াত ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। ফলে উভয় দলই পৃথকভাবে প্রার্থী দেওয়ার পথে এগোচ্ছে, যা জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এদিকে ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগ। কওমি ঘরানার দলগুলোকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্যে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদ্রাসায় সাতটি ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট এবং নেজামে ইসলাম পার্টির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। হেফাজতের পক্ষ থেকেও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সিনিয়র নেতারা।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি দলকে আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে লিখিতভাবে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ঐক্যের রূপরেখা জানাতে বলা হয়েছে। এরপর নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের কাঠামো, নেতৃত্ব, কর্মসূচি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচনে সমন্বিতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ উদ্যোগে এনসিপিও আগ্রহ দেখিয়েছে। ইতোমধ্যে দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কওমি ঘরানার কয়েকটি দলের একাধিক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। সেখানে সংস্কার, বিচার ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সম্ভাব্য সমন্বয়ের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

এনসিপির নির্বাহী কমিটির এক সদস্য আগামীর সময়কে বলেন, কওমি দলগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শেষ হয়েছে। এখন সংস্কার ইস্যুতে তাদের অবস্থান পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপির জোটে থাকা একাধিক ইসলামি দলের অবস্থানও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে কথা বলেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এর আগে তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠককে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

তবে আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, বিভিন্ন আলেম ও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো সমন্বয়ের বিষয় থাকলে সেটি হবে দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি... বিস্তারিত