ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে আইনি নোটিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পুনর্নির্মাণে অনভিজ্ঞ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণ নীতিমালা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে ন্যাশনাল হেরিটেজের চালচিত্র ধ্বংস এবং নির্মাণকাজে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আজ রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালককে এ নোটিশ পাঠান।
জনস্বার্থে ও সরকারি সম্পদের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে হেরিটেজে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণ এবং অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে নোটিশে। একই সঙ্গে কার্যাদেশ প্রদানের মাধ্যমে কেউ আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন কি না, তা তদন্তে নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থাপত্য ও পুরকৌশল বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন নোটিশদাতা আইনজীবী।
অন্যথায় জনস্বার্থে এবং দেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ সংস্কারের নামে হেরিটেজ বিনষ্টের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশের অনুলিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরকে পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে কিছু বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণ করেন। দেশের সফলতম রাষ্ট্রপ্রধানের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম নগরীর পুরোনো সার্কিট হাউজ ভবনকে ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। সময়ের পরিক্রমায় জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
নোটিশে বলা হয়েছে, অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে সংস্কারকাজের জন্য ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত জিয়া স্মৃতি জাদুঘর বন্ধ রয়েছে। তবে সংস্কারকাজে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা নির্মাণে অনভিজ্ঞ ও ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ, কাজে অবহেলা ও ধীরগতি, নিয়ম-নীতি না মেনে সংস্কারের নামে হেরিটেজ ধ্বংস করে অবকাঠামোর রূপান্তর, সংস্কারকাজে বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা এবং আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসংবলিত ভবনটি পুনর্নির্মাণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) পরামর্শ নেওয়া হয়। তবে তাদের মতামত উপেক্ষা করে ‘মেসার্স ইসমত এন্টারপ্রাইজ’ নামে অনভিজ্ঞ ও ভুঁইফোড় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চলতি বছর ৩ ফেব্রুয়ারি ভবনটির নির্মাণকাজ দেওয়া হয়। এরপর বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে কার্যাদেশ দেওয়ার দিনই জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের মূল ভবনে সংস্কার কার্যক্রম শুরুর নামে পুরোনো অবকাঠামো ভাঙচুর করে ঐতিহ্য বিনষ্ট করা হয়।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ অক্টোবর)
- বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডে ৭ ক্যাটাগরিতে ৩৮ পদে নিয়োগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ অক্টোবর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ অক্টোবর)
- বাতিল পরীক্ষার নতুন সূচি দিল যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর
- আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২২৮ পদে নিয়োগ
- বায়তুল মোকাররমে খতিবের অপসারণের অভিযোগ ঘিরে বিক্ষোভ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ অক্টোবর)
- ঢাবির ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মীদের অবাধ যাতায়াত, বাড়ছে অস্বস্তি
- জেনে নিন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে আয়ের ১০টি উপায়
- দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তির আগে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত নয়: হাইকোর্ট