ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী-নৈশপ্রহরী নিয়োগ নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী

২০২৬ জুলাই ২৬ ১৯:৪০:০৬

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী-নৈশপ্রহরী নিয়োগ নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সমস্যা সমাধান এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রোববার (২৬ জুলাই) সিলেট পিটিআইয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, সিলেট আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো প্রতিটি বিদ্যালয়কে শতভাগ কার্যকর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। কোনো বিদ্যালয় কেন অকার্যকর, শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, প্রশিক্ষণের ঘাটতি কিংবা অন্য যেকোনো কারণ সবকিছুর বাস্তব তথ্য মাঠপর্যায় থেকেই জানতে হবে। বাস্তব চিত্র গোপন না করে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মর্যাদা, সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তবে এর পাশাপাশি কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও আরও কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে আগামী বছরের মধ্যে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। অভিভাবক, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং ইতিবাচক যোগাযোগও একজন শিক্ষা কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ ভবন, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, মিড ডে মিল এবং উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায় থেকে নিয়মিত ও নিরপেক্ষ প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না।

বিদ্যালয় পরিদর্শনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু প্রশাসনিক তদারকির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। প্রতিটি পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য হতে হবে শিক্ষার্থীরা বাস্তবে কতটুকু শিখছে, তা যাচাই করা। এজন্য বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় শ্রেণিকক্ষে সরাসরি ‘লার্নিং অডিট’ পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিমন্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যা শুনেছেন, সমাধানের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং প্রাথমিক শিক্ষায় ফলভিত্তিক মনিটরিং ও জবাবদিহিতার নতুন কর্মসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এবং সিলেট বিভাগের সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং ইউপিইটিসি ইন্সট্রাক্টররা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরি... বিস্তারিত