ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
বাবার দাফনের রাতভর ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকন দাড়িয়া। বাবার দাফনের মাত্র ১০ ঘণ্টা পর রাতভর এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করে বুধবার (২২ জুলাই) সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিনি। মাত্র ২১ বছর বয়সেই নিজের পাশাপাশি পুরো পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়েছে তার কাঁধে।
ইকন সদ্য প্রয়াত ইসরাফিল দাড়িয়ার (৪৫) ছোট ছেলে। তিনি বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী এবং চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের ব্যয় নির্বাহে বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি টাকা উত্তোলন বুথে রাতের শিফটে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বাবার দাফন শেষে রাতেই তিনি কর্মস্থলে যোগ দেন। রাতভর দায়িত্ব পালন শেষে বুধবার সকালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন। বাবাকে হারানোর শোক, পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব, চাকরি এবং পড়াশোনা সবকিছুই এখন একাই সামলাতে হচ্ছে তাকে।
স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া। সকাল ৬টায় তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাদ জোহর জানাজা শেষে মরদেহ গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তার মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। বড় ছেলে ইমনও একসময় বাবার সঙ্গে কাজ করতেন। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকে পরিবারের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে ইকন।
বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকার কৃষি ব্যাংকের নিয়মিত গ্রাহক শেখ মিরানুজ্জামান বলেন, তিনি প্রায়ই রাতে টাকা তুলতে এসে ইকনকে বই হাতে পড়তে দেখেছেন। কোনো গ্রাহক এলে ইকন দরজা খুলে দেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা করেন। গ্রাহক চলে গেলে আবার পড়াশোনায় মন দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহান শেখ বলেন, রাতের বেলায় প্রায়ই তিনি ইকনকে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পড়াশোনা করতে দেখেন। একদিন কৌতূহলবশত জানতে চাইলে ইকন জানান, পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তি তিনি। বড় ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন এবং কয়েক ঘণ্টা আগেই তার বাবা মারা গেছেন।
ইকন বলেন, “আমার বাবা গতকাল হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তাকে গোপালগঞ্জে আমাদের পুরোনো বাড়িতে কবর দেওয়া হয়েছে। আমাদের পরিবারে আমি, আমার মা ও বড় ভাই আছি। বড় ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন। এখন পরিবারের সব দায়িত্ব আমার কাঁধে। আমি একটি এটিএম বুথে চাকরি করি। আমার বেতন ৮ হাজার টাকা।”
খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হাসিব উদ্দিন রাখি বলেন, ইকন তার কলেজের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তিনি বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৪ দশমিক ১১ পেয়ে কলেজে ভর্তি হন এবং প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো ফল করেছেন। তিনি জানান, ইকন রাতে এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করেন। বাবার মৃত্যুর পরও তার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রশংসনীয়। কলেজের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- পে-স্কেলের গেজেট কেন প্রকাশ হচ্ছে না, জানা গেল রহস্যময় তথ্য
- দুই মন্ত্রীর দায়িত্ব বাড়াল সরকার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ সেপ্টেম্বর)
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- রোববার বিদ্যুৎ থাকবে না অর্ধশতাধিক এলাকায়