ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
মেসিকে বোতলবন্দি করতে স্পেনের ভরসা রদ্রি
স্পোর্টস ডেস্ক: লিওনেল মেসি-ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা জাদুকর। গত দুই দশকে তাকে থামানোর কার্যকর উপায় খুঁজতে গিয়ে বিশ্বের অনেক নামকরা কোচই ব্যর্থ হয়েছেন। তবে রোববার (১৯ জুলাই) নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণের আগে স্পেনের সামনে মেসিকে নিষ্ক্রিয় করার একটি পরীক্ষিত কৌশল রয়েছে। সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন স্প্যানিশ অধিনায়ক ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রক রদ্রি।
ইতিহাস বলছে, মেসিকে একজন খেলোয়াড় দিয়ে সার্বক্ষণিক ম্যান-মার্কিং করার কৌশল অধিকাংশ সময়ই উল্টো ফল দিয়েছে। কারণ, মেসি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিজের মার্কারকে অবস্থান থেকে সরিয়ে সতীর্থদের জন্য ফাঁকা জায়গা তৈরি করেন।
এই কৌশলের ফাঁদ এড়াতে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির তৎকালীন কোচ জোয়াকিম লো ভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। সেই ম্যাচে জার্মানি মেসির জন্য কোনো নির্দিষ্ট মার্কার নিয়োগ করেনি। বরং তার চারপাশে তৈরি করেছিল একটি চলমান ‘জোনাল কেজ’ বা রক্ষণাত্মক বলয়।
মেসি মাঠের নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে প্রবেশ করলেই নিকটবর্তী জার্মান ডিফেন্ডার তাকে চেপে ধরতেন। একই সময়ে আরও দুই-তিনজন খেলোয়াড় তার সম্ভাব্য পাসিং লেন বন্ধ করে দিতেন। অনেকটা রিলে রেসে ব্যাটন হস্তান্তরের মতো এক ডিফেন্ডার থেকে অন্য ডিফেন্ডারের দায়িত্বে চলে যেতেন মেসি।
সেই ফাইনালে মাঝমাঠে বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার ডিফেন্সের সামনে মানবঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে মেসির সাপ্লাই লাইন কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেন। একই সঙ্গে বেনেডিক্ট হাওয়েভস ও ম্যাটস হামেলস মেসিকে তার স্বাভাবিক বাঁ পা ব্যবহার করতে না দিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ডান পায়ের দিকে খেলতে বাধ্য করেছিলেন। সম্মিলিত এই রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলাই ছিল মেসিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল চাবিকাঠি।
স্পেনের মূল ভরসা রদ্রি
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির সেই শোয়াইনস্টাইগারের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে স্পেনের রদ্রিকে। বিশ্বসেরা এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ওপরই থাকবে মেসির কাছে বল পৌঁছানোর আগেই আক্রমণের গতি থামিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব।
ফাইনালে স্পেনের পরিকল্পনায় রদ্রির তিনটি দিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রথমত, পাসিং লেন বন্ধ করা। ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝখানের পকেট স্পেসে মেসি যেন বল না পান, সে জন্য রদ্রি তার অসাধারণ পজিশনাল অ্যাওয়ারনেস কাজে লাগিয়ে বলের জোগান বন্ধ করার চেষ্টা করবেন।
দ্বিতীয়ত, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ। চলতি বিশ্বকাপে একক সংস্করণে সবচেয়ে বেশি সফল পাস দেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন রদ্রি। স্পেন যদি দীর্ঘ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তাহলে মেসিকে বল সংগ্রহের জন্য নিজের অর্ধে নেমে আসতে হবে, যা ফাইনাল থার্ডে তার কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
তৃতীয়ত, আর্জেন্টিনার কাউন্টার-অ্যাটাক রুখে দেওয়া। ট্রানজিশন পর্যায়ে আর্জেন্টিনা যেন দ্রুত মেসিকে খুঁজে না পায়, সে জন্য শুরুতেই ট্যাকটিক্যাল ফাউল এবং বুদ্ধিদীপ্ত প্রেসিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে রদ্রির ওপর।
তবে স্পেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে আর্জেন্টিনার শারীরিক ফুটবল এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মানসিকতা সামলানো। স্প্যানিশরা যদি রদ্রিকে ঘিরে মেসিকে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, তাহলে আর্জেন্টিনার রদ্রিগো ডি পলসহ অন্য খেলোয়াড়রা স্প্যানিশ ফুটবলারদের মেজাজ বিগড়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। সেই উসকানিতে পা না দিয়ে স্পেন যদি নিজেদের মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখতে পারে, তবে ঐতিহাসিক এই ফাইনালে জয়ের শেষ হাসি হয়তো লা রোখারাই হাসবে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ফাইল চূড়ান্ত
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করবেন যেভাবে
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল দেখবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ আগস্ট)
- পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করার পর শিক্ষার্থীদের করণীয় কী
- একাদশে ভর্তি: আবেদন ও প্রক্রিয়া জানুন
- ১৯তম নিবন্ধন থেকে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে না এনটিআরসিএ
- পাঁচ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দিল সরকার
- পিএসসিতে আরও চার সদস্য নিয়োগ
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- এসএসসিতে ফেলের হার ৩৭.৭৫ শতাংশ
- যেভাবে সহজে অনলাইনে দেখবেন এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল