ঢাকা, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

আওয়ামী লীগের প্রণীত আইনেই দলটির বিচার সম্ভব: চিফ প্রসিকিউটর

২০২৬ জুলাই ০৫ ১৫:১৩:১৮

আওয়ামী লীগের প্রণীত আইনেই দলটির বিচার সম্ভব: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের প্রণীত আইনেই দলটির বিচার করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, দীর্ঘ শাসনামলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত করেছে। পাশাপাশি সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির আওতায় দলটির শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও আইনি দায় রয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এসব অপরাধের বিচার করার সুযোগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯—উভয় আইনই আওয়ামী লীগ সরকার প্রণয়ন করেছিল এবং এই দুটি আইনেই এ ধরনের অপরাধের বিচারের বিধান রয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গত ৪ জুলাই একটি স্মরণসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের প্রসঙ্গ তুলেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আপনারা (সাংবাদিক) যেভাবে বক্তব্যটি শুনেছেন, আমিও একইভাবে শুনেছি।”

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করে। পরে ২০১০ সালে একই আইনের আওতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। ২০১৩ সালে শেখ হাসিনার সরকার আইনটি সংশোধন করে এতে ‘অর্গানাইজেশন’ শব্দটি সংযোজন করে। একইভাবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করে, যেখানে ব্যক্তি ছাড়াও কোনো সত্তা বা সংগঠনের বিচারের বিধান রাখা হয়। এছাড়া কোনো সংগঠন অপরাধ করলে সেই আইনের আওতায় তার বিচার করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

মো. আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯-এর ১৮-র ১৮ ধারা ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল। তিনি বলেন, দল নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়াসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো আওয়ামী লীগ সরকারই বিভিন্ন সময়ে প্রণয়ন ও সংশোধন করেছে। সংবিধানেও তারা একাধিক সংযোজন এনেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। সেই আইনই ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে একই আইনের আওতায় দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারও সম্ভব।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার দেশে একটি ‘ফ্যাসিজম রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় জনগণের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সংকুচিত করা হয় এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। গত ১৬ বছরে মানুষের স্বাভাবিক জীবন ও রাজনৈতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনটি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে কোনোটি ‘রাতের’, কোনোটি ‘একদলীয়’ এবং কোনোটি ‘আমি-ডামি’ নির্বাচন হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে। তার দাবি, সে সময় ছাত্র-জনতার ওপর সরকারের বিভিন্ন বাহিনীকে নির্বিচারে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও সাংগঠনিকভাবে বিভিন্ন হতাহতের ঘটনায় জড়িত ছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দায়ের হওয়া অভিযোগ তদন্ত সংস্থা যথাযথভাবে তদন্ত করছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সংঘটিত অপরাধের পৃথক তদন্তেরও সুযোগ রয়েছে। তদন্ত শেষে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ জুলাই)


আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণের বাজারে ফের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের ফলে শনিবার থেকে নতুন... বিস্তারিত