ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
আজ শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশে আলোড়ন তোলা পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ রোববার ঘোষণা করবেন আদালত। আলোচিত এ মামলায় অভিযুক্ত দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছেন নিহত শিশুটির পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।
ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন গত ৪ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।
গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার পর মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে পুলিশ। পরে ২৪ মে মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
বিচারকের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করে ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগ গঠন করা হয়। একই দিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
পরদিন ২ জুন এক কার্যদিবসেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে আদালত। এ সময় রামিসার বাবা-মা, বোন এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চান। তবে অপর আসামি স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
মাত্র পাঁচ কর্মদিবসে মামলার বিচারকাজ শেষ হওয়াকে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার কারণেই এত দ্রুত বিচার সম্ভব হয়েছে। তার মতে, এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আইনজীবীরা বলছেন, রামিসা হত্যা মামলার মতো অন্যান্য ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের মামলাও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত তদন্ত কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, প্রতিটি মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হলে নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত অপরিহার্য। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণের মামলার জন্য আলাদা তদন্ত সংস্থা গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ রয়েছে, আসামি স্বপ্না কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়।
পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার মা আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার একটি স্যান্ডেল দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে সোহেল রানার কক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ পাওয়া যায়। পরে বাথরুমের একটি বড় বালতি থেকে তার মাথা উদ্ধার করা হয়।
জাতীয় জরুরি সেবার মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্নাকে আটক করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ২০ মে আদালতে সোহেল রানা অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ অক্টোবর)
- বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩১ অক্টোবর)
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- আনসার-ভিডিপিতে ২২৮ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ অক্টোবর)
- মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুকদের সুখবর দিল সরকার
- ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- নভেম্বরের শুরুতে টানা তিন দিনের ছুটি পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
- ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন করবেন যেভাবে, জানুন বিস্তারিত
- এইচএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল কবে, জানাল বোর্ড
- ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এমপির ছেলেকে যুবদল থেকে বহিষ্কার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (০১ নভেম্বর)
- আজকের খেলার সময়সূচি (৩০ অক্টোবর)