ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সংসদকে কার্যকর করতে সাংবিধানিক জ্ঞান অপরিহার্য: ডেপুটি স্পীকার

২০২৬ জুন ০৪ ২০:৩০:৫৮

সংসদকে কার্যকর করতে সাংবিধানিক জ্ঞান অপরিহার্য: ডেপুটি স্পীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার কায়সার কামাল এমপি বলেছেন, সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের গভীর জ্ঞান থাকা সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করে তুলবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক ও সংসদীয় বিধিবিধান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘সংবিধান, কার্যপ্রণালী বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পীকার বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ আইন এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। সংবিধানের ৬৪, ৭৪, ৭৬ ও ৭৮ অনুচ্ছেদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধারার তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব বিধান সংসদীয় কাঠামো, কমিটি ব্যবস্থা, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি শুধু আনুষ্ঠানিক নিয়ম নয়, বরং এটি সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার একটি কার্যকর দিকনির্দেশনা। আইন প্রণয়ন, প্রশ্নোত্তর পর্ব, নোটিশ প্রদান, প্রস্তাব ও সংশোধনী উত্থাপন, ভোটদান পদ্ধতি এবং সংসদীয় বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহারে এই বিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।

ওরিয়েন্টেশন কোর্সে ডেপুটি স্পীকার সংবিধানের মৌলিক বিষয়, সংসদীয় রীতি-নীতি, সংসদে আলোচনা পদ্ধতি, নোটিশ ও প্রস্তাবের ব্যবহার, প্রশ্নোত্তর পর্ব, স্থায়ী কমিটির কার্যক্রম এবং নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে সংসদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, সংসদে উপস্থিতি, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উপস্থাপন করা একজন জনপ্রতিনিধির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও সমস্যাগুলো প্রতিফলিত হতে হবে।

ডেপুটি স্পীকার আরও বলেন, সংসদের কাছে সরকারসহ রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান জবাবদিহিতার আওতায় থাকে। তাই সংসদের কার্যকারিতা ও মর্যাদা রক্ষায় কোরাম নিশ্চিতকরণ, সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্থায়ী কমিটিগুলোকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি সংসদ সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়িত্বের বিষয়েও আলোকপাত করেন এবং বলেন, এসব অধিকার যেমন সংরক্ষণ করা জরুরি, তেমনি তা দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে প্রয়োগ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, সংসদ কেবল আইন প্রণয়নের স্থান নয়; এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। সংসদ সদস্যদের জ্ঞানভিত্তিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা সংসদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং সংসদের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত