ঢাকা, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেশবন্ধু পলিমারের কারখানা ও জমি নিলামে তুলছে ঢাকা ব্যাংক

২০২৬ মে ০৬ ১২:৫০:২৬

দেশবন্ধু পলিমারের কারখানা ও জমি নিলামে তুলছে ঢাকা ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বকেয়া ঋণ আদায়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেডের বন্ধকী জমি, কারখানার যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সম্পদ নিলামে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি। দীর্ঘদিনের তারল্য সংকট এবং উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রমে ধসের মুখে পড়া কোম্পানিটির কাছে ব্যাংকটির পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি ১০ লাখ টাকা।

ঢাকা ব্যাংকের লোকাল অফিসের পক্ষ থেকে জারি করা নিলাম নোটিশ অনুযায়ী, গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত অর্জিত সুদসহ দেশবন্ধু পলিমারের মোট দায়ের পরিমাণ ৫২ কোটি ১০ লাখ টাকা। ২০০৭ সাল থেকে কোম্পানিটি লেটার অব ক্রেডিট (এলসি), মেয়াদী ঋণ এবং ক্যাশ ক্রেডিট (হাইপো) সহ বিভিন্ন ঋণ সুবিধা গ্রহণ করে আসছিল। কিন্তু ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করতে না পারায় অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর অধীনে এই নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

নিলামের তালিকায় নরসিংদীর পলাশ উপজেলার কুয়াদী মৌজায় অবস্থিত ১২৯ শতাংশ জমি রয়েছে। এছাড়া ঘোড়াশালের চরসিন্দুর এলাকায় অবস্থিত কারখানার সকল স্থায়ী ও অস্থায়ী সম্পদ, প্ল্যান্ট এবং যন্ত্রপাতি, খুচরা যন্ত্রাংশ, ভারী সরঞ্জাম এবং কারখানায় মজুদ থাকা মালামালও বিক্রির জন্য তালিকায় রাখা হয়েছে।

আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১৪ মে দুপুর ২টার মধ্যে মতিঝিলের আদমজী কোর্টে অবস্থিত ব্যাংকের লোকাল অফিসে সিলমোহরকৃত দরপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। একই দিন দুপুর ২টা ০১ মিনিটে দরপত্রগুলো খোলা হবে।

২০১১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া দেশবন্ধু পলিমার বর্তমানে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির আয় ৮০ শতাংশ কমে মাত্র ২.৫১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে ১৭.৭৭ কোটি টাকা। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও কোম্পানিটি ২৪ কোটি টাকা লোকসান দেওয়ায় কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তীব্র বিদ্যুৎ সংকট এবং ডলার সংকটের কারণে তারা কাঁচামাল আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় এলসি খুলতে পারেনি। ফলে স্থানীয় বাজার থেকে চড়া মূল্যে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে এবং তারা নিয়মিত ক্রয়াদেশ হারাচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ হার কোম্পানিটির লোকসানের বোঝাকে আরও ভারী করেছে।

বর্তমানে দেশবন্ধু পলিমার শেয়ারবাজারে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হচ্ছে। গত ৫ মে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ০.৫৬ শতাংশ কমে ১৭.৬০ টাকায় স্থিতি পেয়েছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত