ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

যুদ্ধের মাঝেও তেল বিক্রি করে আয় বাড়াচ্ছে ইরান

২০২৬ মার্চ ২৭ ২০:৪৩:১০

যুদ্ধের মাঝেও তেল বিক্রি করে আয় বাড়াচ্ছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও তেল রপ্তানি থেকে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত আয় করছে ইরান। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারা বড় রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হওয়ায় বিশ্ববাজারে ইরানি তেলের চাহিদা ও দাম—দুটিই বেড়ে গেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান মূলত দুইভাবে লাভবান হচ্ছে। প্রথমত, তাদের প্রধান ক্রেতা চীনের কাছে এখন তুলনামূলক কম ছাড়ে তেল বিক্রি করছে ইরান। গত প্রায় ১০ মাসের মধ্যে এই ছাড়ের পরিমাণ এখন সবচেয়ে কম। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় রপ্তানি থেকে তাদের আয়ও বেড়ে গেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হলেও ইরানের তেল রপ্তানি কার্যক্রম তেমন ব্যাহত হয়নি। যুদ্ধের আগের মতোই দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, পারস্য উপসাগরের খারগ দ্বীপ টার্মিনালে নিয়মিত বড় বড় ট্যাংকার নোঙর করছে এবং সেগুলো হরমুজ প্রণালি হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে যাত্রা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই কার্যক্রম আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে উপসাগরীয় অনেক উৎপাদক দেশের তেল রপ্তানি বিভিন্ন কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। এমনকি তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রপথে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো পদক্ষেপও নিয়েছে, যা তেহরানের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক রিচার্ড নেফিউ বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে ইরান কার্যত তেল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করা।

ট্যাংকারট্র্যাকারস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ইরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের তেল বিক্রি করছে। ফেব্রুয়ারিতে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ইরানি তেলের দামের ব্যবধান এখন কমে মাত্র ২ ডলার ১০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যেখানে যুদ্ধের আগে এই ব্যবধান ছিল ১০ ডলারের বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বাড়তি আয় ইরানের দুর্বল অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করছে এবং একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরব যখন উৎপাদন কমানো বা বিকল্প রুট খোঁজার চাপে রয়েছে, তখন ইরান নির্বিঘ্নে খারগ দ্বীপ ও জাস্ক টার্মিনাল ব্যবহার করে তেল বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। জাস্ক টার্মিনালটি হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় সেখান থেকেও অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছে তেহরান। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি বাবদ প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত আয় করছে দেশটি।

এদিকে সংঘাতের মধ্যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এখনো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি। বিপরীতে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশ কয়েকটি তেল ও গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কাতারের রাস লাফান এলএনজি কেন্দ্র বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ পারস গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি খাতে হামলার হুমকি দিলেও পরে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে কিছুটা নরম সুরে কথা বলেছেন। তবে ইরান সরকার কোনো ধরনের আলোচনা চলছে এমন খবর অস্বীকার করে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

দেশে সোনার বাজারে বড় দরপতন

দেশে সোনার বাজারে বড় দরপতন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা... বিস্তারিত