ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
অপারেশন ছাড়াই সুস্থতার অভিজ্ঞতা শোনালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ত্রোপচার প্রায় নিশ্চিত—এমন পরিস্থিতি থেকেও শেষ পর্যন্ত ছুরি-কাঁচি ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নিজের সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেছেন, চিকিৎসায় অপারেশনই শেষ সমাধান নয়; প্রয়োজনে বিকল্প পদ্ধতিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে মার্চ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ফেইজে ভর্তি রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ইনডাকশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল তার ব্যক্তিগত চিকিৎসা-অভিজ্ঞতা ও তা থেকে পাওয়া শিক্ষা।
মন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় সহিংস এক ঘটনার মধ্যে তার ডান পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পুলিশের আঘাতে তার পায়ের টেন্ডন ছিঁড়ে যায় এবং তিনি দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছিলেন না।
ঘটনার পর ঘনিষ্ঠজন ও অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অপারেশনের পরামর্শ দেন। একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল।
তবে এ সময় এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি ভারতের বেঙ্গালুরুতে যান। সেখানে এক চিকিৎসক সরাসরি পরীক্ষা করে এমআরআই করার নির্দেশ দেন। রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে চিকিৎসক জানান, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই।
মন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, তখন তিনি দাঁড়াতেই পারছিলেন না, অথচ চিকিৎসক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান—অপারেশন ছাড়াই সুস্থ হওয়া সম্ভব।
চিকিৎসক তাকে বিশেষ ধরনের একটি জুতা ব্যবহার করতে দেন ২১ দিনের জন্য এবং নির্দিষ্ট কিছু অনুশীলনের পরামর্শ দেন। নির্ধারিত সময় জুতা ব্যবহারের পর আরও সাত দিন অনুশীলন চালিয়ে যান তিনি। ধীরে ধীরে দাঁড়ানো ও হাঁটার সক্ষমতা ফিরে পান। শেষ পর্যন্ত কোনো অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যারা অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা অযোগ্য ছিলেন না। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিকল্প ও কনজারভেটিভ পদ্ধতির দিকেও নজর দিতে হবে।
রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চিকিৎসা পেশায় শেখার শেষ নেই। প্রতিনিয়ত নতুন গবেষণা, পদ্ধতি ও জ্ঞানের সঙ্গে নিজেকে হালনাগাদ রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক চিকিৎসায় কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্ট, রিহ্যাবিলিটেশন ও রোগীকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কখন অস্ত্রোপচার প্রয়োজন আর কখন বিকল্প চিকিৎসাই যথেষ্ট—সেই বিচারবোধই একজন চিকিৎসকের প্রকৃত দক্ষতা।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং নবীন রেসিডেন্ট চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন। রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয় সেখানে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ সেপ্টেম্বর)
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা বলছেন কর্মকর্তারা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত