ঢাকা, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২

পদ হারাচ্ছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১০:১১:২৬


পদ হারাচ্ছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর চিফ প্রসিকিউটর পদে পরিবর্তন আসতে পারে এমন আলোচনা এখন আইনাঙ্গনে বেশ জোরালো। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সরকার ভাবছে বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রসিকিউটর। এ পদে সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় এসেছে আইনজীবী আমিনুল ইসলাম–এর নাম। তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া–র দুর্নীতির মামলায় গঠিত আইনজীবী দলের সদস্য ছিলেন, যে মামলায় তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দণ্ডিত হয়েছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই চিফ প্রসিকিউটরসহ প্রসিকিউশন টিমে পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। তবে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান–এর একটি ফেসবুক পোস্টের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা এই সাংবাদিক লেখেন, সরকার নতুন একজনকে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে সরিয়ে আইনজীবী আমিনুল ইসলামকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এমনকি তাজুল ইসলামকে প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্তের বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে বলেও ওই পোস্টে দাবি করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র সরকারের। এরপর নতুন করে ঢেলে সাজানো হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাজুল ইসলামকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। বর্তমানে এসব মামলার বিচারকাজ চলছে ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২–এ। ইতোমধ্যে তিনটি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। এসব রায়ে দণ্ডিত ২৬ জনের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাসহ দুটি মামলার রায় অপেক্ষমাণ। আগামী ৪ মার্চ রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলাগুলোর বিচারও ট্রাইব্যুনালে চলছে। এসব মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানসহ আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী সাবেক এমপি ও মন্ত্রী রয়েছেন।

তবে সাম্প্রতিক এক প্রতিক্রিয়ায় তাজুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত না জানানো হলেও আইনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং বিচার প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে যাবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত