ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

বিএনপি জোটকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১৮:৫৪:৪২

বিএনপি জোটকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল জয়লাভ করায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জোটকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজিদুর রহমান বলেন, দেশের জনগণ ও গণরায়ের ভিত্তিতে নির্বাচনে এই সফলতা অর্জনের জন্য তারা তারেক রহমান এবং বিএনপি জোটকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে নির্বাচিত সকল সংসদ সদস্যকেও অভিনন্দন জানানো হয়। অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকেও ধন্যবাদ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করা হয়।

হেফাজত নেতারা বিবৃতিতে বলেন, রাষ্ট্র ক্ষমতা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত একটি মহান নিয়ামত। যারা দেশ শাসনের দায়িত্বে নিয়োজিত, তাদের ওপর জনগণের অধিকার আদায়ের গুরুদায়িত্বও ন্যস্ত। রাষ্ট্র ক্ষমতা কোনো সম্মানের বিষয় নয়, এটি একটি কঠিন আমানত। এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন ও ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা প্রত্যেক শাসকের প্রধান কর্তব্য।

বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয়, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, সুশাসন, মসজিদ-মাদ্রাসা, আলেম-ওলামা, নাগরিকের ধর্মীয় ও মানবাধিকার সংরক্ষণ, আইনের শাসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মুসলিম শিক্ষা ও সভ্যতা সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

হেফাজত নেতারা আরও বলেন, সব রাজনৈতিক মত ও পথের প্রতি সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে হবে। জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হবে এবং ফ্যাসিবাদী পন্থার শিকড় মূলোৎপাটনে সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে। ক্ষমতাসীনরা নিজেদের শাসক হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে বিবেচনা করবে।

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রসঙ্গে হেফাজতের বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে সহিংসতা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য কোনো জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে না। নতুন সরকারের প্রতি সন্ত্রাস ও সহিংসতা দমনে কঠোর কিন্তু ন্যায়ভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তরুণ সমাজ ও নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস, প্রতিপক্ষকে আক্রমণ, মিথ্যা তথ্য প্রচার ও সহিংস কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করা হয়। শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় হওয়া, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা ও ছোটদের প্রতি মমত্ববোধ প্রদর্শনের জন্যও আহ্বান করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শান্তি শুধুমাত্র সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা একটি নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়ক। দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবিচার থেকে বিরত থাকতেও গুরুত্বারোপ করা হয়। জনগণের জান-মাল, ইজ্জত ও অধিকার রক্ষা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

হেফাজত নেতারা বিশেষভাবে দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন সরকার একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত