ঢাকা, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২
পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করলে বিপাকে পড়বে আইসিসি
স্পোর্টস ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা হিসেবে পুরো টুর্নামেন্ট বর্জনের কথা ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এমন খবরে বিশ্ব ক্রিকেটে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ভারতের মাটিতে খেলতে অনীহা প্রকাশ করায় আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এই ঘটনার পর সোমবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো না হলেও, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে কূটনৈতিক অবস্থানের বাইরে বাস্তবতায় এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মহসিন নাকভি আগেও স্পষ্ট করেছেন, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে শেষ কথা বলবে সরকার। যদিও আসরের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়েছে, তবুও সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো মেলেনি। ফলে সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এই বিষয়ে সরকারি ঘোষণা আসতে পারে। তবে এমন কিছু বাস্তব ও আইনি বাধা রয়েছে, যা পাকিস্তানের পক্ষে বিশ্বকাপ বয়কটকে কার্যত অসম্ভব করে তুলছে।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, সব পূর্ণ সদস্য দেশ টুর্নামেন্টের আগে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালে পাকিস্তান সরাসরি সেই চুক্তি লঙ্ঘন করবে। এর ফল হিসেবে আইসিসি পিসিবির বার্ষিক রাজস্ব বরাদ্দ স্থগিত করতে পারে, যার পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার বাংলাদেশি মুদ্রায় যা তিন শতাধিক কোটি টাকা। আর্থিক সংকটে থাকা পিসিবির জন্য এটি বড় ধাক্কা হবে।
এ ছাড়া বয়কটকে যদি সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে আইসিসি এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ক্রিকেট ব্যবহারের অভিযোগ হিসেবে দেখতে পারে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা, এশিয়া কাপসহ আঞ্চলিক আসর থেকে বাদ পড়া কিংবা ভবিষ্যৎ বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ হারানোর মতো কঠোর শাস্তি আসতে পারে।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ ছাড়া এই লিগ কার্যত অচল। বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত এলে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের বোর্ড তাদের খেলোয়াড়দের পিএসএলে খেলার অনাপত্তিপত্র দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে।
এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একঘরে হয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দ্বিপাক্ষিক সিরিজই যেখানে বোর্ডগুলোর আয়ের মূল ভিত্তি, সেখানে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া পাকিস্তানের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে। এতে বড় দলের পাকিস্তান সফর বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, যা পিসিবির আয়ের বড় উৎসে আঘাত হানবে।
বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানানো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তবে পুরো একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট বয়কট করা পাকিস্তানের জন্য নৈতিক অবস্থানের চেয়ে বেশি আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে পরিণত হতে পারে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
- শুরু হচ্ছে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’, স্কোয়াড ও সূচি ঘোষণা
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৩ ফেব্রুয়ারি)
- ঢাবির ১৯ শিক্ষার্থী পেলেন ‘টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
- দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিম চালু
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: জেনে নিন সরাসরি দেখার উপায়
- ১০০ টাকা প্রাইজ বন্ডের ১২২তম ড্র অনুষ্ঠিত, জেনে নিন বিজয়ী নম্বরগুলো
- কে এই কু'খ্যাত জেফ্রি এপস্টেইন?
- এভারকেয়ারে বিশেষ ছাড়ে চিকিৎসা পাবেন ঢাবি অ্যালামনাই সদস্যরা
- ঢাবির 'বি' ইউনিটের পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, পরিবর্তন ৮ জনের
- গ্রামীণফোনের ২১৫ শতাংশ ফাইনাল ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- বিমস্টেকও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর মধ্যে বিশেষ বৈঠক সম্পন্ন
- উপবৃত্তিতে বড় পরিবর্তন, খুলল নতুন সুযোগ