ঢাকা, সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২
দায়িত্বগ্রহণের চার মাসে ২২৫ টি কাজ ও উদ্যোগ গ্রহণ ডাকসুর
আমজাদ হোসেন হৃদয়
রিপোর্টার
নিজস্ব প্রতিবেদক: দায়িত্বগ্রহণের প্রথম চার মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) শিক্ষার্থীদের কল্যাণে দুইশত ২৫ টি কাজ ও উদ্যোগ করেছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত 'ডাকসুর চার মাস: কার্যবিবরণী ও জবাবদিহিতা' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কাজ ও উদ্যোগের বিবরণী তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চার মাসের কার্যবিবরণী পেশ করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। এসময় তিনি বলেন, আমরা ১৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম। তবে ১০ সেপ্টেম্বর যেদিন ফলাফল ঘোষণা করা হয় সেদিনই আমরা বলেছিলাম আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের কাজের জবাবদিহি করবো। তার ধারাবাহিকতায় গত ডিসেম্বরে আমরা ডাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সম্মেলন করি। সেখানে আমরা আমাদের দু মাসের কাজগুলো জানিয়েছিলাম। হল সংসদের প্রতিনিধিরাও তাদের কাজগুলো জানিয়েছিল এবং সমস্যার কথাও জানিয়েছিল। আমরা আজকে দায়িত্বগ্রহণের চার মাসে ডাকসু যে সব কাজ করেছে ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে সেসব বিষয় সকলের কাছে তুলে ধরছি। পাশাপাশি ডাকসুর কাজের ডকুমেন্টেশনের জন্য দুটি স্মারক গ্রন্থ তৈরি করা হয়েছে। সেগুলোরও মোড়ক উন্মোচন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের যে ইশতেহার দিয়েছিলাম এবং অন্যান্য যারা নির্বাচিত হয়েছিল তাদের সবার ইশতেহারগুলো নিয়ে নোট ডাউন করেছিলাম। যতগুলো ইশতেহার ছিল আমরা সবগুলোতে কাজ করার চেষ্টা করেছি। এমন কোন ইশতেহার নেই যে আমরা যেগুলোতে কোন কাজ করিনি বা উদ্যোগ গ্রহণ করিনি। সবগুলো জায়গায় আমরা কাজ করেছি কিংবা কাজের উদ্যোগ নিয়েছি। এরপরেও যদি শিক্ষার্থীদের চোখে কোন বিষয়ে মনে হয় আমরা কোন কাজ করিনি সেটি আমাদের জানালে আমরা সেটি নিয়ে অবশ্যই কাজ করবো।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনকে সামনে রেখে আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট ছিল বাজেটের অভাব। দীর্ঘদিন ধরে ডাকসু কার্যত অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল। আজ বিশ্ববিদ্যালয় ১০৪ বছরে পা রেখেছে, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেছে; অথচ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি স্তরে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা চায় না শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর থাকুক, চায় না স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠিত হোক।
তিনি বলেন, এই অকার্যকর অবস্থান বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে অসহযোগিতা করা হয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়েছে, নানাভাবে কাজ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হয়েছে। তবু আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে গেছি। বাজেটের অজুহাতে বসে থাকিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই, দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিসরে থাকা রিসোর্স পারসন এবং দাতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা কাজ এগিয়ে নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আজ আমরা চাইলে বলতে পারতাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফান্ড পাইনি, তাই কাজ করতে পারিনি। কিন্তু আমরা সেই পথ বেছে নিইনি। আমাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে আজ পর্যন্ত প্রায় ২২৫টি কাজ সম্পন্ন করেছি, যা ৩৩টি খাতে বিভক্ত। এর বিস্তারিত তথ্য আমাদের ওয়েবসাইট ও আপনাদের হাতে দেওয়া বুকলেটে প্রকাশ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা গত চার মাসে ডাকসুর কাজের মধ্যে রয়েছে: ডাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করে প্রতিবছর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ডাকসুর দ্বিতীয় কার্যনির্বাহী সভায় সর্বসম্মতিক্রমে রেজুলেশন আকারে প্রস্তাব পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট পাঠানো, ডাকসুর দ্বিতীয় কার্যনির্বাহী সভায় শেখ হাসিনার আজীবন সদস্যপদের এখতিয়ার বহির্ভূত রেজুলেশন বাতিল, আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদে এয়ারকন্ডিশনসহ জরুরি সংস্কার কাজ, ১৫০০ ছাত্রী ধারণক্ষমতার ছাত্রী হল নির্মাণ দ্রুততর করার লক্ষ্যে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাথে দফায় দফায় আলোচনা, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২৮০০ কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে কাজ করা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৫টি হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে সম্মতি আদায়, ছাত্রীদের ইবাদতের জন্য কার্জন হলের কমনরুমে নির্ধারিত স্থান ও মসজিদ সংস্কারের কাজ শুরু করা, কমনরুমসমূহ ও টিএসসির নামাজের স্থানে নতুন কার্পেট প্রদান করা হয়েছে, ডাকসুর ওয়েবসাইট চালু করা, আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সসহ ১০টি এয়ার কন্ডিশনার ও এক্স-রে মেশিন-ইসিজি মেশিন-এনালাইজার- মাইক্রোস্কোপসহ হাসপাতাল বেড ও আলমিরা-চেয়ার- ডেস্ক প্রভৃতি প্রদানসহ সম্পূর্ণ মেডিকেল সেন্টার সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করা, ৫০% ছাড়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের সাথে MoU স্বাক্ষর করা, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ১১৯ জন শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা প্রদান করা, হল ভিত্তিক মোট ১৮ বার ছারপোকার ঔষধ দেওয়া৷
উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আরও রয়েছে: একাডেমিক এরিয়া-সহ ছাত্রী হলসমূহে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ, সোচ্চার-এর সাথে যৌথ উদ্যোগে Serenity Session: Breathe & Bloom শীর্ষক ইন্টারাক্টিভ সেশন আয়োজন করা, সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে Breast Cancer Awareness শীর্ষক সেমিনার, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সহযোগিতায় দুটি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ৩০০০ শিক্ষার্থীকে দেওয়া, বারডেম হাসপাতালের সহযোগিতায় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য স্বল্পখরচে ব্রেস্ট ক্যান্সার চেকআপের সুযোগ প্রদান।
বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে ডাকসু সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে বিজয় কুইজ প্রতিযোগিতা, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস স্মরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মুনির চৌধুরীর বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার শীর্ষক স্মরণিকার জন্য লেখা আহ্বান, ‘বিজয়ের রঙতুলি’ শীর্ষক আলপনা উৎসব, বিজয় দিবসে ‘বিজয় সাইকেল র্যালি ও স্ট্যান্ট শো’ আয়োজন, ‘যুদ্ধ দিনের গল্প শুনি’ শীর্ষক মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান, ‘বিজয়ের কথা’ শীর্ষক প্রকাশনার জন্য লেখা আহ্বান, মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে৷ এছাড়াও ডাকসু সীরাতুন্নবী (সা.) সন্ধ্যা ও সীরাত প্রতিযোগিতা, নবান্ন উৎসব, নাট্যোৎসবসহ কয়েকটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এছাড়াও গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণের জন্য চারটি সেমিনার আয়োজন, ৭টি প্রসিদ্ধ জার্নালে ফ্রি অ্যাক্সেসের ব্যবস্থা করা, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আলো স্বল্পতা দূর করতে লাইটিং ও বিজ্ঞান লাইব্রেরিতে নতুন ফ্যান সংযোজন করা, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে পরীক্ষার হল বরাদ্দ প্রথা বাতিল করা, শিক্ষার্থীদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য সফট স্কিল প্রশিক্ষণের আয়োজন, ৪টি প্রেজেন্টেশন ওয়ার্কশপ আয়োজন, স্পোকেন ইংলিশের ৪টি কোর্স চালু করা, বিভিন্ন সেক্টরের প্রফেশনালস এবং শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ স্কিল সামিট আয়োজন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে ২৯টি ই-রিসোর্স সাবস্ক্রাইবের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়াও ডাকসুর উদ্যোগে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট ও রেঞ্জার সদস্যদের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী “Firefighting, Search & Rescue, First Aid and Earthquake Management Training” সম্পন্ন, লাইফ স্কিল প্রশিক্ষণের আওতায় ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে মোটরসাইকেল চালনা প্রশিক্ষণ চালু, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ টি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক ১৮ টি প্রশিক্ষণ প্রদান, দুটি ইনস্টিটিউট এবং তিনটি ছাত্রী হলে মোট পাঁচটি সেলফ ডিফেন্স প্রশিক্ষণ প্রদান, ছাত্রীদের জন্য পৃথক জিমনেসিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু করা, দুই দফায় ১৮ টি হলে মোট ৩৬ বার পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি, শব্দ দূষণ রোধে DURC-এর সহ-উদ্যোগে ১০ কিমি রান সম্পন্ন করা, COP-30 জাতিসংঘ সম্মেলন উপলক্ষে ঢাবি টু জাবি সাইকেল র্যালি আয়োজন করা হয়েছে।
পরিবহন খাতে ডাকসুর কাজের মধ্যে রয়েছে জরাজীর্ণ বাস পরিবর্তন এবং ট্রিপ ও সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউজিসিসহ অংশীজনদের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি টাকার বাজেটের ব্যবস্থা করা, সকল রুটে বহুল কাঙ্ক্ষিত সান্ধ্যকালীন বাস ট্রিপ চালু করা, ক্যাম্পাসে অভ্যন্তরীণ যাতায়াতে ১৯টি ইলেকট্রিক শাটল চালু করা, সব ছাত্রী হলকে ক্যাম্পাস শাটলের আওতাভুক্ত করা, ক্ষণিকা রুটের বাসগুলোর এক্সপ্রেসওয়ে টোল ফ্রি করে পরিবহন অফিসের সাথে সমন্বয় করা।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ম্যারিকোর বিরুদ্ধে ১৮২৩ কোটি টাকার মামলা
- বিপিএল কোয়ালিফায়ার ১: চট্টগ্রাম বনাম রাজশাহী-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- বিপিএল ২০২৬ ফাইনাল: রাজশাহী বনাম চট্টগ্রাম-খেলাটি সরাসরি দেখুন
- ঢাবিতে পার্সিয়ান ডিবেটিং ক্লাবের উদ্যোগে ‘ফিউশন ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, তালিকা দেখুন এখানে
- ইপিএস প্রকাশ করেছে তিন কোম্পানি
- ঢাবি 'বি' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, যেভাবে দেখবেন
- রংপুর রাইডার্স বনাম সিলেট টাইটান্সের জমজমাট খেলাটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ইপিএস প্রকাশ করবে ১৮ কোম্পানি
- সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শীতবস্ত্র বিতরণ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এপেক্স ট্যানারি
- ইপিএস-ডিভিডেন্ড প্রকাশ করবে ১৮ কোম্পানি
- ইপিএস প্রকাশ করেছে শাহজীবাজার পাওয়ার
- শেয়ারবাজারে সূচক হ্রাস, বিনিয়োগকারীদের মনোবল অক্ষুণ্ণ
- ইপিএস প্রকাশ করবে ৫৮ কোম্পানি