ঢাকা, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

‘মব’ নিয়ে তাজুল ইসলামের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক

২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৫:৪৫:৫৬

‘মব’ নিয়ে তাজুল ইসলামের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘মব’ শব্দটি ব্যবহার করার পেছনে কখনো কখনো বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি মানসিকতা কাজ করতে পারে। তাই এই শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

রোববার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তন-এ ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে তিনি এই মন্তব্য করেন। সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

তাজুল ইসলামের বক্তব্যের পর সংলাপে উপস্থিত কয়েকজন বক্তা তার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এই বক্তব্যকে ‘হুমকি’ হিসেবে দেখছেন বলে জানান।

সংলাপে রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনা চলাকালীন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি মব সহিংসতার প্রসঙ্গও উঠে আসে।

সংলাপের শুরুতে সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করীম আব্বাসি বলেন, বর্তমানে আইনের শাসনের বদলে ‘মবোক্রেসি’ দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচার চলছে এবং তথাকথিত তৌহিদি জনতা নিজ হাতে আইন প্রয়োগ করছে। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে আইন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতীকী উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বিপ্লবের আগে বা পরে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে তার প্রতিক্রিয়া অনিবার্য। তিনি অভিযোগ করেন, মবকে সুযোগ দেওয়ার ফলেই তারা সরকার, নির্বাচন কমিশন এমনকি রাষ্ট্রকেও ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এ মন্তব্যগুলোর জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, গণভবনের পতনের আন্দোলনের সঙ্গে ছিনতাই বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার মতো ঘটনাকে এক করে দেখা ঠিক নয়। তার মতে, বিপ্লবের অর্জনের সঙ্গে ‘মব’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হলে তা সংযত হওয়া উচিত।

সংলাপে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আইনের শাসনের কথা বলেও যদি মবকে উসকানি দেওয়া হয়, তা গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরীও তাজুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

সংলাপ সঞ্চালনা করেন সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, আগে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি ‘মব নেই, তারা চাপ প্রয়োগকারী গোষ্ঠী’ বলে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন; তারপরই বিভিন্ন উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। এখন আবার মবের পক্ষে বক্তব্য আসায় ভবিষ্যতে নতুন ধরনের অঘটনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৮ জানুয়ারি)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৮ জানুয়ারি)

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (১৪... বিস্তারিত