ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
পরিকল্পনা ছাড়া নগর উন্নয়ন সম্ভব নয়: বিআইপি সভাপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অপরিকল্পিত নগরায়ন থেকে বেরিয়ে আসতে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানারস (বিআইপি) সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের জন্য পুরো দেশের জন্য একটি শক্তিশালী স্থানিক পরিকল্পনা আইন প্রণয়ন এবং জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা তৈরি করা জরুরি।
রোববার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে একটি অভিজাত হোটেলে ‘রাজনৈতিক চর্চায় পরিকল্পিত নগরায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশে এখনো জাতীয় পর্যায়ের কোনো সামগ্রিক পরিকল্পনা নেই। শহরভিত্তিক কিছু পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ১৯৯২ সালে ব্রিটিশ পরিকল্পনা কাঠামোর আলোকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মহাপরিকল্পনা করা হয়েছিল, কিন্তু তা কার্যকর না হওয়ায় প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন দপ্তরের অধীনে অন্য শহরের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে দেশে একটিও পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পিত শহর গড়ে ওঠেনি।
তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে পরিকল্পনাবিদরা পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করতে প্রস্তুত। গঠনমূলক সমালোচনা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হবে এবং নীতিনির্ধারণে পরিকল্পনাবিদদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
বিআইপি সভাপতি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতিহারে পরিকল্পনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করছে—এটি আশাব্যঞ্জক। তবে এসব পরিকল্পনা যদি জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত না হয়, তাহলে সমন্বিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। অতীতে বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলা হলেও স্থানীয় সরকার কার্যকরভাবে শক্তিশালী হয়নি। ভবিষ্যতে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার কাঠামো আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পরিকল্পনা দপ্তরগুলো মূলত আমলানির্ভর। প্রশাসকরা খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন করায় পরিকল্পনার মতো কারিগরি বিষয়ে দূরদর্শিতার অভাব, দক্ষতার সংকট ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি হয়। ফলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়। এ অবস্থায় পরিকল্পনাবিদদের নেতৃত্বমূলক ভূমিকা নিশ্চিত না হলে পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই সব উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়, তাই প্রকল্পগুলো যেন জাতীয় উন্নয়ন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এ লক্ষ্যে জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত নগর পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ গঠন করা প্রয়োজন।
গোলটেবিল বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসানের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউটের সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন সরাসরি
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: Live দেখুন এখানে
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- ডিসেম্বরে দেশে ফেরা নিয়ে নতুন ঘোষণা হাসিনার
- মাসিক ১,৪০০ ইউরো স্টাইপেন্ডসহ ইউরোপে মাস্টার্সের সুযোগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৬ সেপ্টেম্বর)