ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
জ্বালানি মহাপরিকল্পনা ২০২৫ বাতিলের দাবিতে শাহবাগে নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ
পার্থ হক
রিপোর্টার
পার্থ হক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত ২৫ বছর মেয়াদি ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫’ (IEPMP 2025)-কে জনবিরোধী ও অস্বচ্ছ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে এক প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা এই দাবি জানান। নাগরিক প্রতিনিধিদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার এই পরিকল্পনা প্রণয়নে পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী সরকারের মতোই অস্বচ্ছতা ও জনবিচ্ছিন্নতার পথ অনুসরণ করছে।
‘বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট’ (বিডব্লিউজিইডি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), আমরাই আগামী, ইথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ (ইটিআই বাংলাদেশ), রি-গ্লোবাল, সৌহার্দ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, সেইফটি অ্যান্ড রাইটস (এসআরএস), ওয়াটারকিপার্স ও শ্রমিক-নেতৃত্বাধীন ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ওয়ার্কার ক্যান)-সহ বেশ কয়েকটি সংগঠন সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নেয়।
প্রতিবাদ সভায় বিডব্লিউজিইডি-এর সদস্য সচিব হাসান মেহেদী বলেন, “এই খসড়া পরিকল্পনা প্রণয়নে সাধারণ মানুষ, নাগরিক সমাজ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। কোনো প্রকার জনশুনানি ছাড়াই এটি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে, যা বিগত সরকারের দায়মুক্তিমূলক নীতিরই প্রতিফলন। উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কোনো অংশগ্রহণমূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।”
বক্তারা অভিযোগ করেন, এই মহাপরিকল্পনায় ‘এনার্জি ট্রানজিশন’-এর কথা বলা হলেও বাস্তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ মাত্র ১৭ শতাংশ, যা কাগজে-কলমে ৪৪ শতাংশ দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ১৫.৮ গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ২৫.২ গিগাওয়াট করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২৫ বছর পরও দেশ এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর ৫০ শতাংশ নির্ভরশীল থাকবে, যা জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আরও উল্লেখ করেন, এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৫০ সালে বাংলাদেশের কার্বন নির্গমন হবে ১৮৬.৩ MtCO₂e। এটি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত ‘শূন্য কার্বন’ বা ‘থ্রি জিরো’ দর্শনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এছাড়া হাইড্রোজেন ও কার্বন ক্যাপচারের মতো ব্যয়বহুল ও পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দেশকে নতুন ঋণ ও ভর্তুকির সংকটে ফেলবে।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো হলো:
১. অবিলম্বে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ (IEPMP 2025) স্থগিত ও বাতিল করা।
২. বিশেষজ্ঞ ও জনগণের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করা।
৩. জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা কমিয়ে ১০০% নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন করা।
৪. ন্যায্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরের ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
অন্যথায় এই পরিকল্পনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অস্বচ্ছ ও জনস্বার্থ বিরোধী দলিল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন নাগরিক প্রতিনিধিরা।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- ঢাবি ক্যাম্পাসে ববি হাজ্জাজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষক, বললেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ববি হাজ্জাজের
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঈদের চামড়া বিক্রিতে হতাশ বিক্রেতারা
- ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ কবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী