ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রায়েরবাজারের ৮ অজ্ঞাত শহীদের পরিচয় শনাক্ত করেছে সিআইডি
নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ দেড় বছর ধরে যারা নিখোঁজ ছিলেন কিংবা পরিচয়হীনভাবে দাফন হয়েছিলেন, ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে অবশেষে তেমন ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শনাক্ত হওয়া শহীদদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হয় এবং পরিবারের কাছে তাদের কবর বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ জানান, আদালতের নির্দেশ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে ১১৪টি অজ্ঞাত মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। ৯টি পরিবারের দেওয়া নমুনার ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
শনাক্ত হওয়া ৮ শহীদের পরিচয়:
১. মো. মাহিন মিয়া (২৫): পিতা-গাজী মামুদ, মাতা-জোসনা বেগম। গ্রাম-ফুলপুর, ময়মনসিংহ। মৃত্যু: ১৮ জুলাই ২০২৪।
২. আসাদুল্লাহ: পিতা-আব্দুল মালেক, মাতা-আয়েশা বেগম। গ্রাম-শ্রীবরদী, শেরপুর। মৃত্যু: ১৯ জুলাই ২০২৪।
৩. পারভেজ বেপারী: পিতা-সবুজ বেপারী, মাতা-শামসুন্নাহার। গ্রাম-বারোহাতিয়া, মতলব, চাঁদপুর। মৃত্যু: ১৯ জুলাই ২০২৪।
৪. রফিকুল ইসলাম: পিতা-মৃত আব্দুল জব্বার সিকদার। গ্রাম-সাতকাছিমা, নাজিরপুর, পিরোজপুর। মৃত্যু: ১৯ জুলাই ২০২৪।
৫. সোহেল রানা: পিতা-মো. লাল মিয়া, মাতা-রাশেদা বেগম। গ্রাম-লৌহজং, মুন্সীগঞ্জ। মৃত্যু: জুলাই ২০২৪।
৬. রফিকুল ইসলাম: পিতা-মৃত খোরশেদ আলম। গ্রাম-ফেনী সদর, ফেনী। মৃত্যু: ১৯ জুলাই ২০২৪।
৭. ফয়সাল সরকার: পিতা-শফিকুল ইসলাম। গ্রাম-কাচিমারা, দেবিদ্বার, কুমিল্লা। মৃত্যু: ২২ জুলাই ২০২৪।
৮. কাবিল হোসেন (৫৮): পিতা-মৃত বুলু মিয়া, মাতা-শামেনা বেগম। ঠিকানা-মুগদা, ঢাকা। মৃত্যু: ২ আগস্ট ২০২৪।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্যরা ১৮ মাস পর প্রিয়জনের কবরের সন্ধান পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বক্তব্য রাখেন।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও ফরেনসিক প্রক্রিয়া:
সিআইডি জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক ‘মিনেসোটা প্রটোকল’ অনুসরণ করে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সহায়তায় আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবল-বিঞ্জ এবং ড. লুইস ফন্ডেব্রিডারের দিকনির্দেশনায় সিআইডির ফরেনসিক ও ডিএনএ টিম এই কার্যক্রম পরিচালনা করে। গত ৭ থেকে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত রায়েরবাজারে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে ১১৪টি মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ সকল শহীদের সঠিক হিসাব না পাওয়া এবং তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। এটি বাংলাদেশে মানবাধিকারভিত্তিক তদন্তের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- ঢাবি ক্যাম্পাসে ববি হাজ্জাজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষক, বললেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়
- শোলাকিয়া থেকে জাতীয় ঈদগাহ কোথায় কখন ঈদের জামাত, জেনে নিন বিস্তারিত
- ফ্রান্সের উদ্দেশ্য দেশ ছাড়লেন ড. ইউনূস
- বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ দেশবাসীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের ঈদের শুভেচ্ছা
- বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ববি হাজ্জাজের
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব