ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
খালেদা জিয়ার মৃ'ত্যুর পেছনে ‘ইচ্ছাকৃত চিকিৎসা অবহেলা’র অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গুরুতর অবহেলা ছিল এবং সেই অবহেলাই তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় সরকারের উচিত অবিলম্বে খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক শোকসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. এফ এম সিদ্দিকী জানান, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯ জনিত জটিলতা নিয়ে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হলে বর্তমান মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ভর্তির পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তারা দেখতে পান, তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। বিষয়টি তাদের জন্য ছিল বিস্ময়কর ও গভীর উদ্বেগের।
তিনি বলেন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া চিকিৎসা ছাড়পত্র অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে রিউমাটয়েড আর্থাইটিসের জন্য নিয়মিত Methotrexate (MTX) নামের একটি ওষুধ সেবনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং ভর্তি অবস্থাতেও তাকে এই ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। অথচ MTX গ্রহণের ফলে লিভারের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে এই ঝুঁকি উপেক্ষা করা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ওষুধটি বন্ধ করা হয়।
ডা. সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়া আগে থেকেই MAFLD বা ফ্যাটি লিভার ডিজিজে ভুগছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে Methotrexate ব্যবহারের সময় নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট ও প্রয়োজনে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা ছিল অত্যাবশ্যক। কিন্তু লিভার ফাংশন টেস্টে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ার পরও সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকরা কোনো আল্ট্রাসনোগ্রাম করেননি এবং MTX বন্ধও করেননি।
তিনি আরও জানান, তৎকালীন চিকিৎসকদের ওপর আস্থার অভাবে খালেদা জিয়া হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে রাজি হননি। তবে অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় তার আস্থাভাজন চিকিৎসকের মাধ্যমে বেডসাইডে Point of Care Ultrasound (POCUS) করা যেত। অন্ততপক্ষে MTX বন্ধ করা ছিল ন্যূনতম দায়িত্ব, যা পালন করা হয়নি।
অনেকের প্রশ্নের জবাবে ডা. সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়াকে ধীরে ধীরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না এই প্রশ্ন ওঠে। তার ব্যাখ্যায়, Methotrexate-ই এমন একটি ওষুধ ছিল, যা তার ফ্যাটি লিভার ডিজিজকে দ্রুত সিরোসিসে রূপান্তরিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে এটি তার লিভারের জন্য ‘স্লো পয়জন’-এর মতো কাজ করেছে।
তিনি বলেন, আজ দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে এক গভীর বেদনা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করা এই মানুষটি যদি আর কিছুদিন বেঁচে থাকতেন! যদি দেখতে পেতেন, মানুষ ভয়হীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে।
ডা. এফ এম সিদ্দিকীর অভিযোগ, চিকিৎসায় ধারাবাহিক অবহেলা এবং লিভার ফাংশনের দ্রুত অবনতি পরিকল্পিতভাবেই খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটি কেবল অবহেলা নয়, বরং একটি অমার্জনীয় অপরাধ। তিনি বলেন, এটি সুদূরপ্রসারী কোনো হত্যাপরিকল্পনার অংশ ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি। পাশাপাশি তার ডায়াবেটিস ও আর্থাইটিস চিকিৎসায়ও অবহেলার স্পষ্ট প্রমাণ মেডিকেল বোর্ডের কাছে রয়েছে।
এ কারণে তিনি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান। তদন্তে সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, ভর্তি থাকা অবস্থায় কোন কোন চিকিৎসক চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ রয়েছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি খালেদা জিয়া আইনজীবীর মাধ্যমে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলে তাতে কারা বাধা দিয়েছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি করেন।
শেষে ডা. সিদ্দিকী বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত সব নথি আইনগতভাবে জব্দ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তার ভাষায়, “Justice delayed is justice denied।”
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- ঢাবি ক্যাম্পাসে ববি হাজ্জাজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষক, বললেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ববি হাজ্জাজের
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঈদের চামড়া বিক্রিতে হতাশ বিক্রেতারা
- ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ কবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী