ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৫:৩৫:০৩

মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ আলোচনার পরও সরকারি কর্মচারীদের পে স্কেল ঘোষণা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পাবেন। আর্থিক সংকট ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নতুন পে স্কেল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে বেতন কাঠামোর অনিশ্চয়তা কিছুটা বেড়েছে, তবে বর্তমান ভাতা ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

তবে গঠিত পে কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। কমিশনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা যায়। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে জমা দেওয়া হবে, যা নির্বাচনের পর নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়াই যৌক্তিক।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বাজেটের প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে বিশ গ্রেডের কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ হারে ভাতা প্রদানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে পরে সরকার নতুন পে স্কেল বা বেতন কাঠামোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

সার্বিকভাবে, নতুন পে স্কেল কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পাবেন। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে বিশ গ্রেডের কর্মীরা ২০ শতাংশ হারে ভাতা পাবেন।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর। এর আগে ২০০৯ সালে সপ্তম বেতনকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল। সাধারণত সরকার পাঁচ বছর অন্তর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করে। কিন্তু অষ্টম বেতনকাঠামো ঘোষণার ৯ বছরের বেশি সময় পার হলেও নতুন কাঠামো আসেনি, ফলে অনেক কর্মচারীর বেতন গ্রেডের সর্বশেষ ধাপে পৌঁছে গেছে। মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে সমাপ্ত হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (১৩ জানুয়ারি)

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (১৩ জানুয়ারি)

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমবর্ধমান হচ্ছে এবং এর সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার লেনদেনের চাহিদাও বেড়ে চলেছে।... বিস্তারিত