ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ স্বাধীনতার প্রত্যাশা চূর্ণ করেছে: টিআইবি

২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৩:২৫:৩৬

পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ স্বাধীনতার প্রত্যাশা চূর্ণ করেছে: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অভিযোগ করেছে, পুলিশ সংস্কারকে কেন্দ্র করে গঠিত “পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫” স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশনের দীর্ঘদিনের আশা এবং জুলাই সনদের মৌলিক লক্ষ্যকে সম্পূর্ণভাবে খণ্ডন করেছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই অধ্যাদেশ পুলিশ সংস্কারের নামে এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে, যা কার্যত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করবে এবং কমিশনের ওপর নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বাড়াবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, অধ্যাদেশে পুলিশ কমিশনকে শুধুমাত্র একটি “সংবিধিবদ্ধ সংস্থা” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; স্বাধীন বা নিরপেক্ষ হওয়ার কোনো উল্লেখ নেই। তার মতে, এটি কোনো দুর্ঘটনাক্রমে হয়নি, বরং সচেতনভাবে স্বাধীন পুলিশ কমিশনের ধারণা থেকে সরে আসার প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, কমিশনের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যপ্রণালি এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যদি এই অধ্যাদেশে কমিশন গঠিত হয়, তবে এটি স্বাধীন নজরদারি সংস্থা না হয়ে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রিত সরকারি কমিশনে পরিণত হবে। ফলে বেসামরিক তত্ত্বাবধান, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদার পুলিশ বাহিনী গঠন এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা চরমভাবে ব্যর্থ হবে।

অধ্যাদেশে একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে কমিশনের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে ‘সদস্য সচিব’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতায় বসানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় অস্বাভাবিক ও বিপজ্জনক। এতে কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কমিশনারদের কার্যকর ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদমর্যাদা সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হবে, যা কমিশনের স্বাধীনতা কার্যত অর্থহীন করে দেবে। বাছাই কমিটিও সম্পূর্ণভাবে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে, ফলে শুরু থেকেই ক্ষমতাসীন সরকারের প্রভাব নিশ্চিত হবে।

টিআইবি মনে করছে, এই অধ্যাদেশ সরকারকে ইচ্ছামত সরকারি কর্মকর্তা কমিশনে যোগ করার সুযোগ দেয়, যা প্রথম তিন বছরে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই এবং পরবর্তী সময়ে ৩০% সীমা থাকলেও এটি সরকারের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য অত্যাধিক।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংস্কারমুখী নয়; বরং পুরনো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার পুনর্বাসন। জুলাই সনদের আলোকে যে স্বাধীন, জবাবদিহিমূলক ও নাগরিকবান্ধব পুলিশ ব্যবস্থার প্রত্যাশা ছিল, এটি তা সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করেছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত