ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

মুসলিম ঐক্যে হস্তক্ষেপ মানবে না বাংলাদেশ

২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১১:২০:২৭

মুসলিম ঐক্যে হস্তক্ষেপ মানবে না বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ঐক্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ তার অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে। সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) এক বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশ দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিয়েছে—সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস বা ছাড় গ্রহণযোগ্য নয়।

ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ২২তম বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। গত শনিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের বিষয়ে রোববার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের আলোকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো শুধু রাজনৈতিক দায় নয়, বরং এটি একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা। তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় ওআইসির সম্মিলিত অবস্থানের সঙ্গে বাংলাদেশ পুরোপুরি একাত্ম।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওআইসি সনদের মূল ভিত্তিই হলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করা। এ নীতির বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা স্বীকৃতি মুসলিম বিশ্বের স্বার্থের পরিপন্থী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এই বিশেষ অধিবেশনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তথাকথিত ‘সোমালিল্যান্ড’-কে স্বীকৃতি দেওয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং এর ফলে সোমালিয়ার রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার ওপর সৃষ্ট হুমকি। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি ওআইসি সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসরায়েলের এই একতরফা ও বিতর্কিত তথাকথিত স্বীকৃতিকে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান এবং জোরালোভাবে নিন্দা জানানো প্রয়োজন। এ ধরনের পদক্ষেপ পুরো আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তৌহিদ হোসেন বলেন, এমন সিদ্ধান্ত শুধু সোমালিয়ার জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই মুসলিম দেশগুলোর সম্মিলিত ও দৃঢ় অবস্থান এখন সময়ের দাবি।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি ওআইসিভুক্ত সব রাষ্ট্রকে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো অবৈধ তৎপরতা বা বাহ্যিক চাপ মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সংহতি ভাঙতে পারবে না। ন্যায়বিচার, আন্তর্জাতিক আইন এবং বহুপাক্ষিকতার নীতিই সব ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে থাকবে।

এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের এই বিশেষ অধিবেশনের আগে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ওআইসির সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি প্রস্তুতিমূলক বৈঠক। সেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান নিপীড়নের তীব্র নিন্দা জানান এবং ফিলিস্তিন ইস্যুকে ওআইসির ‘কেন্দ্রীয় এজেন্ডা’ হিসেবে পুনরায় নিশ্চিত করেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ওই বৈঠকেও ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এবং সোমালিয়ার সংকটকে সামগ্রিক মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তুলে ধরে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত