ঢাকা, রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২

ডিভিডেন্ড ব্যর্থতায় কপাল পুড়বে মিউচুয়াল ফান্ডের

২০২৬ জানুয়ারি ১১ ০৭:৩৩:৫৭

ডিভিডেন্ড ব্যর্থতায় কপাল পুড়বে মিউচুয়াল ফান্ডের

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সংশোধিত বিধিমালা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫) অনুযায়ী, কোনো ফান্ড যদি টানা তিন অর্থবছর কোনো ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই ফান্ডটি বন্ধ বা লিকুইডেশন করার ঝুঁকি তৈরি হবে।

নতুন নিয়ম অনুসারে, টানা তিন বছর ডিভিডেন্ড দিতে না পারলে ট্রাস্টিরা ইউনিটহোল্ডারদের সভা আহ্বান করবেন। সেখানে তিন-চতুর্থাংশ ইউনিটহোল্ডারের সম্মতিতে ফান্ডটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া বা তালিকাভুক্ত ফান্ডকে বেমেয়াদি (Open-ended) ফান্ডে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেকেন্ডারি মার্কেটে দীর্ঘমেয়াদী মন্দার কারণে অনেক ফান্ডই অর্থবছর ২০২৪ এবং ২০২৫-এ কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি। ফলে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে অর্থবছর ২০২৬-এ তাদের ন্যূনতম হলেও ডিভিডেন্ড বণ্টন করতে হবে।

বর্তমানে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের অন্তত পাঁচটি ফান্ডসহ বেশ কিছু সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের ফান্ড গত দুই অর্থবছর ডিভিডেন্ডদিতে ব্যর্থ হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আইসিবি এএমসিএল ইউনিট ফান্ড, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং রেস পরিচালিত ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডের মতো বড় ফান্ডগুলো রয়েছে। মূলত বিধি অনুযায়ী ফান্ডের সম্পদের অন্তত ৬০ শতাংশ তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হয়, যার বড় অংশই বর্তমানে লোকসানে থাকায় ফান্ডগুলোর আয় কমে গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯.৪ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও ১৬ শতাংশ কমেছে। এর ফলে ফান্ডগুলোর পোর্টফোলিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বিধিমালায় ফান্ড অবলুপ্তির একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে ইউনিটহোল্ডারদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।

বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, যদি চলতি বছরেও ফান্ডগুলো ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ হয়, তবে বাজারমূল্যে বড় ধস নামতে পারে। অন্যদিকে, অনেক বেমেয়াদি ফান্ডের বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে তাদের ইউনিট সারেন্ডার বা ফেরত দেওয়া শুরু করেছেন। শেয়ারবাজার যদি দ্রুত ঘুরে না দাঁড়ায়, তবে অনেক সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার পরিধি সংকুচিত হয়ে আসবে এবং ফান্ডগুলো তারল্য সংকটে পড়বে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

স্বর্ণবাজারে নতুন রেকর্ড

স্বর্ণবাজারে নতুন রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধাক্কার খবর এলো। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রভাবে স্থানীয় বাজারে সোনার মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা... বিস্তারিত