ঢাকা, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম চট্টগ্রাম রয়্যালসের রূদ্ধশ্বাস ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল

২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৮:২৫:০৯

রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম চট্টগ্রাম রয়্যালসের রূদ্ধশ্বাস ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল

সরকার ফারাবী: নির্বাচন থেকে শুরু করে মাঠের পারফরম্যান্স সবকিছু নিয়েই যখন সমালোচনার মুখে চট্টগ্রাম রয়্যালস, ঠিক তখনই ব্যাটে-বলে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জোরালো প্রমাণ দিল বন্দরনগরীর দলটি। বিপিএলের ১৯তম ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে হারিয়ে লো-স্কোরিং এক রূদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল চট্টগ্রাম।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে শুরুতেই ফিল্ডিং বেছে নেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগানোর এই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ইনিংসের শুরুতে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স কিছুটা স্বস্তির ছাপ দেখালেও চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ ওয়াসিমের উইকেট হারানোর পরই ছন্দ হারাতে থাকে দলটি। একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় বড় ইনিংস গড়ার সুযোগ পাননি নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৯ রান আসে মোহাম্মদ ওয়াসিম ও এসএম মেহরবের ব্যাট থেকে। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও রায়ান বার্ল দুই অঙ্কে পৌঁছালেও ইনিংস দীর্ঘ করতে ব্যর্থ হন। প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া আকবর আলী ১৬ বলে ১৭ রান করে কিছুটা দৃঢ়তা দেখান। শেষদিকে তানজিম হাসান সাকিব ১৪ বলে অপরাজিত ১৪ রান যোগ করলেও স্কোরবোর্ডে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১২৮ রান।

চট্টগ্রামের বোলিং আক্রমণ ছিল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত। আমের জামাল দুর্দান্ত বোলিং করে মাত্র ২৩ রান খরচায় তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাকে সমানতালে সহায়তা করেন শরিফুল ইসলাম ও তানভীর ইসলাম দুজনেই শিকার করেন দুটি করে উইকেট। রাজশাহীর ব্যাটারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ ধরে রাখতে সক্ষম হয় রয়্যালসের বোলাররা।

১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রামও শুরুতেই বিপদে পড়ে। নাঈম শেখ, মাহমুদুল হাসান জয় দ্রুত ফিরে যান, আর সাদমান ইসলাম গোল্ডেন ডাকে আউট হয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলেন। অ্যাডাম রসিংটন দুই অঙ্কে পৌঁছালেও ইনিংস বড় করতে পারেননি।

চাপের মুখে অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ২৫ বলে ২৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। তার বিদায়ের পর ম্যাচের ভার পড়ে হাসান নওয়াজ ও আসিফ আলীর ওপর। দুই পাকিস্তানি ব্যাটারের ধৈর্য ও হিসেবি ব্যাটিংয়ে ম্যাচে টিকে থাকে চট্টগ্রাম।

আসিফ আলী ২৫ বলে ২৭ রান করে বিদায় নিলেও অন্য প্রান্তে অবিচল থাকেন হাসান নওয়াজ। ৩৬ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করে শেষ বলেই তিনি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের কাঙ্ক্ষিত জয়।

এই জয়ের ফলে ৭ ম্যাচে ৫টি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করল চট্টগ্রাম রয়্যালস।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত