ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২

দেশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভোটার কোন আসনে?

২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১১:২৬:১৪

দেশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভোটার কোন আসনে?

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসনভিত্তিক হালনাগাদ ভোটার তালিকা বিশ্লেষণে বড় ধরনের তারতম্য উঠে এসেছে। কোনো কোনো আসনে ভোটার সংখ্যা আট লাখ ছাড়ালেও, আবার কোথাও তা আড়াই লাখেরও কম। নির্বাচন কমিশনের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভোটারের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে গাজীপুর-২ আসন, আর তালিকার একেবারে নিচে ঝালকাঠি-১।

ভোটার তালিকা অনুযায়ী, গাজীপুর-২ আসনে মোট ভোটার আট লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। ভোটারের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকা-১৯ আসনে রয়েছে সাত লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন ভোটার। তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে গাজীপুর-১ আসনে সেখানে ভোটার সংখ্যা সাত লাখ ২০ হাজার ৯৩৯ জন।

অন্যদিকে, সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আট লাখের বেশি ভোটার রয়েছে কেবল একটি আসনে গাজীপুর-২। সাত লাখের বেশি ভোটার রয়েছে মোট তিনটি আসনে। সেগুলো হলো ঢাকা-১৯, গাজীপুর-১ ও নোয়াখালী-৪।

ছয় লাখের বেশি ভোটার রয়েছে এমন আসনের সংখ্যা সাতটি। এসব আসন হলো ময়মনসিংহ-৪, সিলেট-১, কুমিল্লা-৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, ঢাকা-১৮, যশোর-৩ ও কুড়িগ্রাম-২।

এছাড়া পাঁচ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে এমন আসনের সংখ্যা ৫২টি। এর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৩, জামালপুর-৫, ময়মনসিংহ-২, বগুড়া-৫, কুড়িগ্রাম-১, রাজবাড়ী-২, দিনাজপুর-৬, কিশোরগঞ্জ-১, চট্টগ্রাম-৮, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, হবিগঞ্জ-৪, চাঁদপুর-৩, কক্সবাজার-৩, মুন্সীগঞ্জ-১, ঢাকা-১, নারায়ণগঞ্জ-৪, কক্সবাজার-১, জামালপুর-৩, বগুড়া-৭, কুমিল্লা-১০, সাতক্ষীরা-২, কিশোরগঞ্জ-২, পাবনা-৫, সুনামগঞ্জ-৫, গাজীপুর-৩, চাঁদপুর-৫, বরগুনা-১, সিলেট-৪, নোয়াখালী-৩, চুয়াডাঙ্গা-১, ঠাকুরগাঁও-১, ফরিদপুর-১, রংপুর-৪, মুন্সীগঞ্জ-৩, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, সিলেট-৬, রংপুর-৩, ফেনী-৩, ঝিনাইদহ-২, গাইবান্ধা-৩, চট্টগ্রাম-১৫, পটুয়াখালী-১, নোয়াখালী-৫, নেত্রকোনা-২, সাতক্ষীরা-৩, ভোলা-৪, চট্টগ্রাম-৫, সুনামগঞ্জ-১, বরিশাল-৫, চাঁদপুর-২, কুমিল্লা-৩ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এতে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৪২ জনে।

বর্তমানে ৯টি আসনে দুজন করে এবং ২২টি আসনে তিনজন করে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। বাকি আসনগুলোতে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা তিনজনের বেশি। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করায় ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩ আসনে তাঁর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়নি। রোববার বিকেলে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময়সীমা শেষ হয়।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, বাতিল হওয়া ৭২৩ প্রার্থীর বেশির ভাগই স্বতন্ত্র। নিয়ম অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিজ নিজ আসনের মোট ভোটারের এক শতাংশের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। স্বাক্ষরে অসঙ্গতি থাকায় অধিকাংশ মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে রোববার পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলে। বাতিল বা বৈধ মনোনয়নের বিরুদ্ধে আজ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি হবে। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে, যাতে প্রার্থী সংখ্যা আরও কমতে পারে।

এই নির্বাচনে মোট তিন হাজার ৪০৬ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে দুই হাজার ৫৬৮ জন তা জমা দেন। নির্বাচন কমিশন ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত