ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ পৌষ ১৪৩২

মৌলিক অধিকারের তালিকায় এবার ‘নিরাপদ পানি’

২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১২:১৪:৫১

মৌলিক অধিকারের তালিকায় এবার ‘নিরাপদ পানি’

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানি নিশ্চিত করাকে সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই অধিকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের এ মর্মে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া ওই রায়ের ১৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করা হয়েছিল।

নিরাপদ ব্যবহারযোগ্য পানি নিশ্চিতের প্রশ্নে ২০২০ সালে স্বপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) একটি রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। রুলে জানতে চাওয়া হয়—দেশের সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানযোগ্য পানি সরবরাহ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব কি না এবং এ অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না।

রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রায়ে বলেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই অধিকার সুরক্ষা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।

রায়ে নিরাপদ পানির উৎস সংরক্ষণে একাধিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। দেশের সব পানির উৎস যাতে শুকিয়ে না যায়, দূষিত না হয় কিংবা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে না পড়ে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে আগামী এক বছরের মধ্যে রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, বিমানবন্দর, হাট-বাজার, শপিং মল, সরকারি হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সব সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, লবণাক্ত উপকূলীয় অঞ্চল, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, সব আদালত ও আইনজীবী সমিতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব পাবলিক প্লেসে নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পানযোগ্য পানি নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে নিরাপদ পানি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী মূল্যে পানযোগ্য পানি সরবরাহের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে সব পাবলিক প্লেসে বিনামূল্যে নিরাপদ পানি সরবরাহে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে সরকারকে বলা হয়েছে।

এ মামলাটি চলমান রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে মামলার শুনানিতে এমিকাস কিউরি হিসেবে মতামত দেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, মিনহাজুল হক চৌধুরী ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত