ঢাকা, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২
'গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ'-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিল সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক: গুম হওয়া কোনো ব্যক্তি যদি অন্তত ৫ বছর নিখোঁজ থাকেন এবং জীবিত ফিরে না আসেন, তবে ট্রাইব্যুনাল তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গুম’ বা ‘ডিসাপিয়ার্ড’ ঘোষণা করতে পারবে। একইসঙ্গে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়াই ওই ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন। এমন বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে গুম প্রতিরোধ ছাড়াও হাওর রক্ষা এবং সুইজারল্যান্ডে নতুন দূতাবাস স্থাপনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
অনুমোদিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকার মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল’-এর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিতে পারবে। এছাড়া ভুক্তভোগী বা অভিযোগকারী চাইলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন। দীর্ঘ ৫ বছর নিখোঁজ থাকার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গুম’ ঘোষণার বিধান ভুক্তভোগী পরিবারের আইনি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সহায়ক হবে বলে মনে করছে সরকার।
বৈঠকে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়ারও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। হাওর এলাকার জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এতে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্তৃত্ব সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, বিষ ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কার্যক্রমকে এই আইনের আওতায় ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া সংরক্ষিত হাওর এলাকা ঘোষণার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে বাংলাদেশের নতুন একটি দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। বর্তমানে জেনেভাতে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থাকলেও রাজধানীর বার্নে কোনো দূতাবাস ছিল না। সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হওয়ায় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একজন রাষ্ট্রদূতসহ প্রয়োজনীয় জনবল দিয়ে এই দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু হবে।
বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। জানানো হয়, হাদির অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। তার চিকিৎসার বিষয়ে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান নিয়মিত প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এছাড়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিঙ্গাপুরে অবস্থান করে হাদির চিকিৎসার তদারকি করছেন।
বৈঠক শেষে মহান বিজয় দিবস সুন্দরভাবে উদযাপনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানায় উপদেষ্টা পরিষদ।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- বইমেলায় ঢাবি শিক্ষক মুমিত আল রশিদের বই 'ইরানি প্রেমের গল্প : রূপ ও সৌরভ'
- স্বামী ও সন্তানকে ঘরে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্ম/হত্যা
- ঈদের তারিখ চূড়ান্ত করল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি
- সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে, যা জানা গেল
- আপত্তিকর ভিডিও বিতর্কে হাতিয়ার ইউএনওকে ওএসডি
- ফুলবাড়ীয়ায় প্রবাসীদের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ
- শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গুলি
- এককালীন অনুদান দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট
- ঢাবি ভিসির পদত্যাগ নিয়ে যা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৭ মার্চ)
- ঢাবির হলে শিক্ষার্থীর গোসলের ভিডিও ধারণ, বিইউপির ছাত্র আটক
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৪ মার্চ)
- কুৎসিত ব্যাটিংয়ে লণ্ডভণ্ড বাংলাদেশ, সিরিজে ফিরল পাকিস্তান
- তিন দেশে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন