ঢাকা, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

প্রাথমিক শিক্ষকদের সতর্ক করল শিক্ষা অধিদপ্তর

২০২৫ নভেম্বর ৩০ ১৬:৪৫:০৮

প্রাথমিক শিক্ষকদের সতর্ক করল শিক্ষা অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তিন দফা দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি চালাচ্ছেন। আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় সাময়িক বা বার্ষিক পরীক্ষাও তারা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা চলাকালীন কোনো শৈথিল্য বা অনিয়ম করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

রোববার অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি অ্যান্ড অপারেশন) এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসানের সই করা চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিটি সব বিভাগীয় উপ-পরিচালক এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় সাময়িক পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, শিক্ষক বা কর্মকর্তার কোনো প্রকার শৈথিল্য বা অনিয়ম দেখা দিলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সহকারী শিক্ষকরা প্রাথমিক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের ডাকে তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি করছেন। পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক মু. মাহবুবর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করেছি। আজকের মধ্যে দাবি পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আমরা পরীক্ষা বর্জন চালিয়ে যাব।”

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সারাদেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই সহকারী শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে দশম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন, আর সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ নিয়ে তারা অসন্তুষ্ট এবং দীর্ঘদিন ধরে গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।

গত ৮ থেকে ১২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন। এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে শিক্ষকরা ক্লাসে ফেরেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় কর্মবিরতি পুনরায় শুরু হয়।

সহকারী শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো- দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছরপূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি। সরকার সরাসরি দশম গ্রেড না দিয়ে আপাতত ১১তম গ্রেডের সুপারিশ করেছে। শিক্ষকরাও এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে রয়েছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত