ঢাকা, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

টানা কর্মবিরতিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা, বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা

২০২৫ নভেম্বর ৩০ ১০:৪৪:৫১

টানা কর্মবিরতিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা, বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তিনটি মূল দাবিতে টানা কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে দেশে সাড়ে ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যত বন্ধ রয়েছে। আগামী সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দাবি পূরণ না হলে শিক্ষকরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকার রোববার (৩০ নভেম্বর) রাতের মধ্যে কার্যকর সিদ্ধান্ত না দিলে সোমবার থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক মু. মাহবুবর রহমান বলেন, “আমরা লাগাতার কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছি। সারাদেশের সাড়ে ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। রোববারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সোমবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প থাকবে না।”

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্রে জানা যায়, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫,৫৬৯টি। এখানে তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত। প্রধান শিক্ষকরা ইতোমধ্যে দশম গ্রেডে বেতনভুক্ত হলেও সহকারী শিক্ষকরা এখনও ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে গ্রেড উন্নীতকরণ, উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধানসহ বিভিন্ন দাবির জন্য আন্দোলন করে আসছেন।

এর আগে গত ৮–১২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে শিক্ষকরা কর্মস্থলে ফিরে গেলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় আবারও তারা কর্মবিরতিতে ফেরেন।

ডিপিইর মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান গত ২৭ নভেম্বর আন্দোলনরত নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এবং বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন না করার আহ্বান জানান। তবে শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো—১. বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি প্রদান

কেএমএ

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত