ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ক্ষতি অর্ধেকে কমাতে পারে যেভাবে
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিলে সম্ভাব্য বড় ধরনের ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ক্ষতি অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশি-বিদেশি ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি ছাড়া সামনে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।
শনিবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড আয়োজিত ‘আর্থকুয়াক অ্যাওয়ারনেস, সেফটি প্রটোকলস অ্যান্ড ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ভূমিকম্পের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে জরুরি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং সময়োপযোগী প্রস্তুতি। বাংলাদেশ ভূমিকম্প-ঝুঁকির শীর্ষ এলাকায় থাকায় অযথা দেরি ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী। তিনি সাম্প্রতিক ঢাকায় অনুভূত একাধিক কম্পনের কথা উল্লেখ করে বলেন, দ্রুত নগরায়ণ, জনঘনত্ব, দুর্বল ভবন কাঠামো ও সীমিত সড়কব্যবস্থা বড় ধরনের ভূমিকম্পকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
ইকবাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আবাসন খাত ও জনগণ এই তিন পক্ষ যদি সমন্বিতভাবে কাজ করে, তবে ভূমিকম্প ঝুঁকি ব্যাপকভাবে কমানো সম্ভব। সময় সীমিত এখনই প্রয়োজন সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন।
তিনি জানান, ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণে জেসিএক্স ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করছে এবং প্রতিষ্ঠানটি ‘সেফটি ফার্স্ট’ নীতিতে অটল।
সেমিনারে বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. এম. শামীম জেড বসুনিয়া, প্রফেসর ড. সৈয়দ ফখরুল আমিন (বুয়েট), রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদুজ্জামান, রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম, প্রফেসর ড. রাকিব আহসান (বুয়েট)সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। উপস্থিত ছিলেন জাপানের ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞরাও, যারা নিয়মমানা নির্মাণ ও জাপানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে প্রয়োগ, পুরনো ভবনের রেট্রোফিটিং, স্ট্রাকচারাল অডিট বাধ্যতামূলক করা, সিসমিক স্টেশন সম্প্রসারণ এবং উদ্ধারকর্মীদের আধুনিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া, পরিবারভিত্তিক প্রস্তুতি এবং স্কুল কলেজে সচেতনতা কার্যক্রমও প্রয়োজন।
আলোচনায় উঠে আসে, সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কোনো দেশই ভূমিকম্প-সহনশীল হতে পারে না। জাপানের মতো নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করতে পারলে বাংলাদেশও ক্ষতি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ ভারত, মিয়ানমার ও ইউরেশীয় এই তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম-টেকনাফের চিটাগং-আরাকান ফল্ট এবং সাগাইং ফল্ট মিলিয়ে অঞ্চলটি অত্যন্ত বিপজ্জনক জোনে রয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ ও ভবন নীতিমালার দুর্বল প্রয়োগ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
গত ১০০ বছরে দেশে ২০০টির বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে এবং ২০২৪ সালের পর কম্পনের হার আরও বেড়েছে বলে জানান বক্তারা।
শেষপর্যায়ে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্ট থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা বিশ্বমানের গবেষণায় ইতোমধ্যে উঠে এসেছে। সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাবডাকশন জোনে ৮০০-১০০০ বছরের সঞ্চিত শক্তি এখনো মুক্ত না হওয়াকে তারা সর্বাধিক উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২২৮ পদে নিয়োগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃ/ত্যুতে রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি হয়েছে: রিজভী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)