ঢাকা, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মুসলিম স্পেনের উত্থানে পাণ্ডিত্য ও গ্রন্থাগার নির্মাণে দ্বিতীয় হাকামের অবদান
নিজস্ব প্রতিবেদক :মুসলিম স্পেন ছিল হাজার বছরের মুসলিম সভ্যতার এক উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ কেন্দ্র। এ সময়টিতে স্পেনকে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির অন্যতম আলোকশিখা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন এখানকার বিজ্ঞানী, কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। জ্ঞানচর্চায় অনুরাগী শাসকদের কারণে গোটা স্পেন পরিণত হয়েছিল এক আদর্শ শিক্ষাভূমিতে।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার এমন সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পণ্ডিত, কবি, গবেষক ও শিল্পীরা পঙ্গপালের মতো ছুটে আসতেন স্পেনে। ফ্রান্স, ইতালি, গ্যালিসিয়া, আফ্রিকা, সিরিয়া, মিসর, ইরাক ও পারস্যসহ বহু দূরদেশের শিক্ষিত মানুষরা এখানে এসে সম্মান, অভ্যর্থনা ও সরকারি বৃত্তি পেতেন। এমন জ্ঞানানুরাগী শাসকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তৃতীয় আবদুর রহমানের পুত্র—দ্বিতীয় হাকাম।
ব্যক্তিগত জীবনে দ্বিতীয় হাকাম ছিলেন একজন অতুলনীয় পণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী নৃপতি। ৯৬১ থেকে ৯৭৬ সাল পর্যন্ত তাঁর শাসনামলে স্পেনে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সোনালি যুগ শুরু হয়। অনেক ইতিহাসবিদের মতে, জ্ঞানচর্চার পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি ছিলেন স্পেনের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা। ইবনে খালদুন লেখেন, হাকাম ছিলেন সাহিত্যপ্রেমী এবং পণ্ডিতদের প্রতি তার বদান্যতার কোনো তুলনা ছিল না। ইতিহাসবিদ জোসেফ ম্যাকেভ মনে করেন, হাকামের শাসন স্পেনকে এমনভাবে সমৃদ্ধ করেছিল যে কর্ডোবা পরিণত হয়েছিল ইউরোপের জ্ঞানের বাতিঘরে।
দুর্লভ পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ ছিল হাকামের আজীবনের নেশা। নতুন কোনো গ্রন্থ রচনার কথা শুনলেই তিনি লেখককে উপহার পাঠাতেন এবং অনুরোধ করতেন প্রথম কপিটি কর্ডোবার জন্য সংরক্ষণ করতে। অসংখ্য লেখক তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় উৎসাহিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেন এবং মূল্যবান সম্মাননা পান। তাঁর সংগ্রহে যুক্ত হয়েছিল প্রায় চার লাখ পাণ্ডুলিপি।
হাকামের বিপুল গ্রন্থাগারে লক্ষাধিক বই সংরক্ষিত ছিল, যার তালিকা তৈরিতেই প্রয়োজন হয়েছিল ৫০ খণ্ড ক catálogo। তিনি শুধু বই সংগ্রহ করতেন না; নিজেও পড়তেন এবং অনেক ক্ষেত্রে বইয়ের পাশে নিজের ব্যাখ্যা লিখে রাখতেন। পরবর্তী যুগের বিদ্বানরা তাঁর এসব টীকা অত্যন্ত মূল্যবান বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
গ্রন্থাগার আন্দোলনের পুরোধা হিসেবে দ্বিতীয় হাকামের খ্যাতি অতুলনীয়। ইতিহাসে খুব কম শাসকই ছিলেন এত বড় গ্রন্থপ্রেমী। তাঁর নামে অসংখ্য গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়। ইবনে খালদুন উল্লেখ করেছেন—হাকামের গ্রন্থাগারের তুলনা কেবল আব্বাসীয় খলিফা আল নাসিরের সংগ্রহের সঙ্গে করা যায়। বিপুল কর্মী থাকা সত্ত্বেও এই গ্রন্থভাণ্ডার স্থানান্তর করতে ছয় মাস সময় লাগে।
ডুয়া/নয়ন
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখুন এখানে
- পে স্কেল নিয়ে ৭ দাবি সরকারি কর্মচারীদের
- প্রথমবারের মতো নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পেলো কুবি
- পে স্কেলের প্রস্তাবিত গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- আজ সন্ধ্যায় সাদিক কায়েমের বিয়ে
- অনার্সে পড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছে সরকার
- ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে বসছে চাঁদ দেখা কমিটি
- ডিগ্রি ৩য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- নতুন করপোরেট গভর্নেন্স রুলসের খসড়া প্রকাশ, মতামত আহ্বান বিএসইসির
- শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর, শুরু হচ্ছে লম্বা ছুটি
- সমকামিতার অভিযোগে দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ শিক্ষার্থীর সিট বাতিল
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবাধিকার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
- না ফেরার দেশে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার
- নতুন উপাচার্য পেল দেশের ১০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
- বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সৌদি আরবে ফুল ফ্রি স্কলারশিপের সুযোগ