ঢাকা, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২

ঢাকায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ইমাম-খতিবদের সাত দফা দাবি

২০২৫ নভেম্বর ২৩ ১৯:৪৩:৪১

ঢাকায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ইমাম-খতিবদের সাত দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকায় প্রথমবারের মতো দেশের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-খতিবদের নিয়ে ব্যাপক পরিসরে আয়োজন করা হয়েছে ‘সম্মিলিত ইমাম-খতিব জাতীয় সম্মেলন ২০২৫’। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইমাম-খতিবদের দ্বীনি দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালনের নিশ্চয়তা দেওয়া, তাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সংরক্ষণ এবং খতিব সমাজের ৭ দফা দাবি রাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরা।

রোববার দুপুর ২টায় রাজধানীর আগারগাঁও চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই সম্মেলন শুরু হয়। সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাকী, অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি আজহারুল ইসলাম ও মুফতি শরিফুল্লাহ।

সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শীর্ষ আলেমরা উপস্থিত ছিলেন, যেমন হাফেজ মাওলানা আব্দুর হক, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমাদ হুসাইন ও মাওলানা আব্দুল হাই নদভী। সম্মানিত ইমাম-খতিবদের মধ্যে ছিলেন ড. খলিলুর রহমান মাদানী, মুফতি আবু সাঈদ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান মমতাজি, মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আব্দুল হাই মিশকাত ও মুফতি বশিরউল্লাহ।

রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী ও অন্যান্য প্রভাবশালী নেতা।

সম্মেলনে উপস্থাপিত ৭ দফা দাবি হলো-

১. রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী শরিয়াহকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব ধর্মের অধিকার সংরক্ষণ।

২. জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ইমাম-খতিবদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা।

৩. মাদ্রাসা ও মসজিদের বিদ্যুৎ ও পানি বিলের বিশেষ ছাড়।

৪. ইমাম-খতিব ও খাদেমদের জন্য পৃথক চাকরি বিধি প্রণয়ন ও মসজিদ কমিটিতে পদাধিকার নিশ্চিত করা।

৫. উপযুক্ত প্রমাণ ও সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া কোনো ইমাম-খতিব গ্রেফতার বা হয়রানি না করা।

৬. সরকার স্বীকৃত আলেমদের সরকারি মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগে অগ্রাধিকার।

৭. ওয়াকফ সম্পত্তি ও শিক্ষাবিষয়ক নীতি প্রণয়নে বিশেষজ্ঞ ইমাম-খতিবদের সম্পৃক্তকরণ।

সম্মেলনের আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই জাতীয় সম্মেলন ও ৭ দফা দাবির মাধ্যমে দেশের ইমাম-খতিব সমাজের ন্যায্য দাবি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নতুন গতি পাবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিগগিরই কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন