ঢাকা, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২
ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ১০ ভূমিকম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপেছে রাজধানী ঢাকা। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানা ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিস) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৭ এবং এর কেন্দ্রস্থল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় অবস্থান করেছিল।
ইউএসজিস ১৯০০ সাল থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ভূমিকম্পের রেকর্ড রাখা শুরু করে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে গত ১২৫ বছরের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বিধ্বংসী ১০টি ভূমিকম্পের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।
তালিকায় দেখা যায়, ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয়েছিল ১৯৬০ সালে চিলির বিওবিও প্রদেশে। ‘ভালদিভিয়া ভূমিকম্প’ বা ‘১৯৬০ সালের চিলি ভূমিকম্প’ প্রায় ১০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। এতে নিহত হন ১,৬৫৫ জন মানুষ এবং হাজার হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।
দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয়েছিল ১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায়। ৯.২ মাত্রার ভূমিকম্প ও সৃষ্ট সুনামিতে নিহত হন ১৩০ জন এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল ২৩০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ।
তৃতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে, ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর। ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প ১০ মিনিটেরও বেশি স্থায়ী ছিল। সুনামিতে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ নিহত হন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে ২০১১ সালের জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প। সুনামির কারণে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।
পঞ্চম স্থানে আছে ১৯৫২ সালের রাশিয়ার কামচাটকা ক্রাই উপদ্বীপে আঘাত হানা ৯ মাত্রার ভূমিকম্প। হাওয়াই ও প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে সৃষ্ট সুনামিতে ২৩ ফুট পর্যন্ত ঢেউ বয়ে যায়। প্রাণহানির তথ্য নেই, তবে ১০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ২০১০ সালের চিলি (কিউরিহিউ) এবং চলতি বছরের ৩০ জুলাই রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের ৮.৮ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প। চিলির ভূমিকম্পে ৫২৩ জন নিহত হন। আজকের ভূমিকম্পে মৃত্যুহার ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।
সপ্তম শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল ১৯০৬ সালে ইকুয়েডরের এসরোলডাস শহরে, মাত্রা ৮.৭, যেখানে ১,৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত হন।
অষ্টম স্থানে রয়েছে ১৯৬৫ সালের যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের র্যাট দ্বীপে ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্প। জনবসতি না থাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে সৃষ্ট সুনামিতে আলাস্কা ও হাওয়াইয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
নবম স্থানে আছে ১৯৫০ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশে ৮.৬ মাত্রার ভূমিকম্প, যা আসাম-তিব্বত ভূমিকম্প নামেও পরিচিত। এতে প্রায় ৪,৮০০ মানুষ প্রাণ হারান।
দশম শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ২০১২ সালের ১১ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছে ভারত মহাসাগরে। ৮.৬ মাত্রার ভূমিকম্পটি ‘ভারত মহাসাগরীয় ভূমিকম্প’ নামে পরিচিত।
কেএমএ
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ নির্দেশনা জারি
- গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি ফল প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ এপ্রিল)
- টানা ৫ দিনের বড় ছুটিতে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ এপ্রিল)
- ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টের পেল বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ এপ্রিল)
- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ব্রাজিল
- অনলাইন ক্লাস হতে পারে যেসব স্কুল-কলেজে
- রবি আজিয়াটার বিরুদ্ধে বিএসইসির আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু
- সংসদে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের অনুমোদন
- দেশে সোনা ও রুপার দামে বড় পতন
- ফের বাড়ছে স্বর্ণের দাম
- সংসদ গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ
- ঢাবিতে ই-মেইল ভেরিফিকেশন প্রশিক্ষণ মঙ্গলবার