ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
প্রেমে হারলেও অধ্যবসায়ে জয়ী: শাহীন আলম এবার বিসিএস ক্যাডার
মো: আবু তাহের নয়ন:জীবন কখনো সরল পথ দিয়ে চলে না। ঢাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শাহীন আলমের জীবন সেই কঠিন বাস্তবতার এক জীবন্ত প্রমাণ। ২০২১ সালে চাকরির অভাবে প্রেমিকা তাকে ছেড়ে চলে যান। সেই বিচ্ছেদের ব্যথা, একাকীত্ব এবং জীবনের অনিশ্চয়তা—সবই যেন একসাথে তাঁকে গ্রাস করেছিল। কিন্তু এই সময়ে তার কষ্ট, আত্মমগ্নতার মুহূর্ত এবং জীবনকে নতুন করে গড়ার তীব্র ইচ্ছে তাকে ভেঙে না দিয়ে বরং নতুন শক্তি দিয়েছে।
প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর তিনি নিজের দেওয়া উপহারগুলো পোড়ান এবং সেই ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে প্রকাশ করেন নিজের ভাঙা মন। কিন্তু এই ব্যথা ও হতাশা তাঁকে থামায়নি। বরং প্রতিটি মুহূর্তে নিজের ভুল ও সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করে, নতুন অধ্যায় শুরু করার সংকল্প তাকে শক্তিশালী করেছে।
ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দায় জন্ম নেওয়া শাহীন আলমের ছোটবেলা কঠিন কেটে যায়। বাবা-মা না থাকার কারণে পড়াশোনা চালাতে তাকে বড় ভাইয়ের সহায়তা নিতে হয়। মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন তারাকান্দা এম.এল. উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন তারাকান্দা বঙ্গবন্ধু কলেজ থেকে। বড় ভাই, বোন ও দুলাভাইয়ের অক্লান্ত সহায়তা তাকে প্রতিটি বাধা অতিক্রমে সাহস যুগিয়েছে।
শাহীন আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০১২–১৩ সেশনের শিক্ষার্থী এবং হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হলের আবাসিক ছিলেন। তিনি নিজের ব্যক্তিগত ব্যথা, বেকারত্ব এবং হতাশার মধ্য দিয়ে অধ্যবসায়ের শক্তি তৈরি করেন। জীবনের এই সংগ্রাম তাঁকে প্রস্তুত করে বিসিএসের বড় পরীক্ষা এবং জীবনের নতুন লক্ষ্য অর্জনের জন্য।
অবশেষে, পঞ্চম চেষ্টাতেই তিনি ৪৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। দীর্ঘমেয়াদী অধ্যবসায়, হতাশার মধ্যেও হাল না ছাড়া, এবং পরিবারের সহায়তা—এই সব মিলিয়ে তিনি স্বপ্নপূরণের শিখরে পৌঁছান। শাহীন আলম বলেন, “আল্লাহর কাছে অনেক অনেক শুকরিয়া। আজ ৪৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলছি। আমার সাফল্যের সবচেয়ে বড় অবদান আমার বড় ভাইয়ের, যার সহায়তায় ছোটবেলা থেকে পড়াশোনা চালাতে পেরেছি।”
শাহীন আলমের জীবনগাঁথা প্রমাণ করে, প্রেমে ব্যর্থতা, বেকারত্ব এবং একাকীত্ব—সব বাধাই জয় করা সম্ভব। প্রতিটি ভুলকে শুধরে নেওয়া, নিজের পথে দৃঢ় থাকা এবং নতুন সুযোগের হাতছানি ধরাই জীবনের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তার গল্প আমাদের শেখায়, জীবনের যেকোনো অন্ধকার মুহূর্তই পরবর্তী আলো ও সাফল্যের সূচনা হতে পারে।
শাহীন আলমের পথচলা হল সেই প্রমাণ, যেখানে ব্যক্তিগত কষ্ট ও হতাশা জয় করে, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের সাহায্যে নতুন জীবন, নতুন আশা ও সাফল্যের আলোকরেখা প্রতিটি পদক্ষেপে প্রস্ফুটিত হয়েছে।
ডুয়া/নয়ন
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা বলছেন কর্মকর্তারা