ঢাকা, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
হংকংয়ের বিপক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত হারের পাঁচ রহস্য
আসাদুজ্জামান
রিপোর্টার
শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠে বসে উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন হামজা চৌধুরী। ঠিক কী ভাবছিলেন, তা শুধুই তিনি জানেন। সম্ভবত কয়েক সেকেন্ডের জন্য তিনি ভেবেছিলেন, এত সুন্দর খেলা দেখিয়েও কেন হারতে হলো। শুধু হামজা নয়, হংকংয়ের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ৪–৩ হারের কারণ খুঁজছিলেন বাংলাদেশ দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রাও।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দলটি স্টেডিয়াম ছেড়ে টিম হোটেলের পথে রওনা দিয়েছে। এক এক করে নিভেছে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট, আর ২২ হাজার দর্শক বেদনা নিয়ে গ্যালারি ছেড়েছেন। সবার মনে তখন শুধু আফসোস আর মন খারাপের ছায়া।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—কেন এই হার?
রক্ষণে সমস্যাঅক্টোবরের ৪–৫ তারিখের দিকে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, বাংলাদেশ দল হংকংয়ের বিপক্ষে শক্ত রক্ষণে সমস্যায় পড়বে। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে তারিক কাজী অর্ধেক ফিট, আর সিনিয়র তপু পুরোপুরি ফিট নন। মূল দুই ডিফেন্ডারই চোটগ্রস্ত। ম্যাচে তাদের সঙ্গে অনভিজ্ঞ জুনিয়র শাকিল আহাদ ও জুয়েল রানা খেলেছেন। শাকিল এখনও জুয়েল রানার মতো কার্যকর ছিলেন না।
রক্ষণকে আরও সুরক্ষিত করতে ইয়াছিনকে নিতে পারতেন কোচ। কিন্তু কোচ তা করেননি। গুরুত্বপূর্ণ দুই ডিফেন্ডার চোটগ্রস্ত থাকলে বিকল্প থাকা জরুরি ছিল। হাভিয়ের কাবরেরা বলতেন, ইয়াছিন বিল্ডআপ খেলতে পারেন না। তবে সব প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সবাইকে বিল্ডআপ খেলতে হবে এমন নিয়ম নেই। শেষ পর্যন্ত অর্ধেক ফিট তারিককে উঠিয়ে নিতে হয়, আর তপু শেষ মুহূর্তে নামানো হলেও পুরো ফিট ছিলেন না।
উইং খেলার দুর্বলতাফুটবলে বেশিরভাগ গোল আসে উইং থেকে ক্রসে। এই কাজটি রাইট উইং থেকে ভালোভাবে করতে পারতেন রাকিব হোসেন। তবে তিনি কাল স্ট্রাইকার পজিশন থেকে উইংয়ে খেলেছেন। প্রতিপক্ষ তাঁর ক্রসিং রাস্তাগুলো বন্ধ করেছে। বাংলাদেশ দলের নাম্বার নাইন নেই; মিডফিল্ডাররা গোল করেছে, কিন্তু উইং প্লে কার্যকর হয়নি। রাকিবকে প্রথাগত উইঙ্গার হিসেবে খেলালে হয়তো ফলাফল ভিন্ন হতো।
খেলার শেষ মুহূর্তে মনোযোগ হারানোযোগ করা সময়ের নবম মিনিটে বাংলাদেশ নাটকীয়ভাবে ৩-৩ করেছে। কিন্তু তৃতীয় গোলের পরে পুরো দল কার্যত মনোযোগ হারিয়েছে। কোচ কাবরেরার গোল উদযাপন ছিল অতিরঞ্জিত; শেষ এক–দুই মিনিটে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে শেষ বাঁশির আগে হংকং গোল করে জয় পায়।
একাদশ নির্বাচনের বিতর্কএশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে টিকে থাকার লড়াইয়ে ঘরের মাঠে সেরা দল নামানো হয়নি। শমিত সোমকে একাদশে নেওয়া সম্ভব ছিল, তবে কোচ তাকে শুরুতে খেলাননি। শমিত সুদূর কানাডা থেকে এসেছে এবং পরে খেলায় নামলেও গোল করেছে। কোচের একাদশ নির্বাচনে এ সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ।
তরুণ লেফট ব্যাক জায়ান আহমেদ অনূর্ধ্ব-২৩ দলে ভালো খেলেছেন। অনুরূপভাবে শেখ মোরছালিনও ভালো খেলেছেন। তবু কোচ জায়ানকে একাদশে দেননি। বদলি নেমে জায়ান দেখিয়ে দিয়েছেন সাদকে ছাড়িয়ে তিনিই বেশি কার্যকর হতে পারতেন।
মাঝমাঠে দু'জন সোহেল রানার কার্যকারিতা কমমাঝমাঠে দু'জন সোহেল রানার কার্যকারিতা চোখে পড়েনি। সিনিয়র সোহেল বহু বছর খেললেও কার্যকর ছিলেন না। জুনিয়র সোহেলও ম্যাচের চাপ সামলাতে পারেননি। এই বিষয়গুলো হংকং ম্যাচে একাদশ নির্বাচনের ত্রুটি স্পষ্ট করে দিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশ দলের হারের পেছনে রক্ষণভিত্তিক সমস্যা, উইং খেলার দুর্বলতা, শেষ মুহূর্তের মনোযোগহীনতা এবং একাদশ নির্বাচনের কিছু ভুল ছিল মূল কারণ।
কেএমএ
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- কানাডা বনাম বসনিয়ার ম্যাচ চলছে: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা-সরাসরি দেখুন (LIVE)
- আর্জেন্টিনা বনাম আইসল্যান্ড ম্যাচ লাইভ দেখবেন যেভাবে
- ৪৯তম বিশেষ বিসিএস উত্তীর্ণদের ফের ভেরিফিকেশন হতে পারে
- বুধবার থেকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদন শুরু
- নিরাপত্তার কারণে বন্ধ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ
- চার দশক পর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
- সংসদে নবম পে-স্কেল ঘোষণা, প্রতিক্রিয়া জানালেন কর্মচারীরা
- অসচ্ছল মেধাবীদের বৃত্তি দেবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন
- ফের বাংলাদেশিদের জন্য খুলতে পারে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
- ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ
- ‘বাবার দোয়া’ ক্রিকেট বোর্ডকে বদলাতে চান তামিম ইকবাল
- বাজেটে কোন খাতে কত বরাদ্দ, বিস্তারিত জানুন
- সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ৫০ শতাংশ বাড়ছে
- ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ