ঢাকা, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

চবিতে সংঘর্ষ: গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের ঢাকায় স্থানান্তর

২০২৫ আগস্ট ৩১ ২২:৫২:২২

চবিতে সংঘর্ষ: গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের ঢাকায় স্থানান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়দের সঙ্গে চবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একই ঘটনায় মোট ১৪৪ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৭ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে, ৪৩ জনকে বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে এবং ২৪ জনকে ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুজনের মাথায় গুরুতর আঘাত এবং একজনের ভাস্কুলার ইনজুরি রয়েছে। বেশিরভাগ আহত শিক্ষার্থীর শরীরেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে দারোয়ান মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ শুরু হয়, যা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়।

এর জের ধরে রোববার সকাল থেকে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়, যাতে অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা আহত হন বলে জানা যায়। এদের মধ্যে ১৪৪ জনকে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রোববার দুপুরে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষের কারণে রোববার চবির প্রায় সবকটি বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ছিল এবং সোমবারও ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় ও আশেপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

সর্বশেষ রোববার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবিদ জানান, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের অফিসার কমান্ডিংয়ের নির্দেশনায় তারা শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ক্যাম্পাসে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। রোববার সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেজর শাহরিয়ার উপাচার্যের কাছে ক্যাম্পাসের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন এবং সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যায়।

তিনি আরও বলেন, ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার পরও তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দুপুর ২টার পর তাদের জানানো হয় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন। এরপর আশপাশের ক্যাম্প থেকে দ্রুত ক্যাম্পাসে এসে দুপুর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে বলে তিনি জানান। লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবিদ বলেন, যেহেতু এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়, তাই আনুষ্ঠানিক আহ্বান ছাড়া তারা হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। বর্তমানে ক্যাম্পাস ও এর বাইরেও তাদের টহল এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযান অব্যাহত আছে এবং খুব শিগগিরই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান তিনি।

এসপি

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যান্য সংবাদ