ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২
বেপরোয়া আরাকান আর্মি, উপকূলজুড়ে আতঙ্ক

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাফ নদী এখন জেলেদের জন্য ভয়ঙ্কর জলপথে পরিণত হয়েছে। মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি প্রায় নিয়মিতই নদীতে মাছ ধরা বাংলাদেশি জেলেদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যাচ্ছে। গত ২৩ দিনে এ পর্যন্ত ৬৩ জন জেলে ও ১০টি ট্রলার অপহরণ করেছে তারা।
বাংলাদেশি জেলেদের নিরাপত্তায় নাফ নদীতে কোস্টগার্ড অভিযান চালালেও তারা সম্প্রতি ১২২ জন জেলেকে আটক করেছে। এর মধ্যে ২৯ জন বাংলাদেশি এবং ৯৩ জন রোহিঙ্গা। অন্যদিকে চার দিনের ব্যবধানে নাফ নদীর জলসীমা থেকে আরও ৪৪ জন জেলেকে তুলে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। রাখাইনে পাচারকৃত ট্রলারভর্তি পণ্য আটক করায় তাদের ক্ষোভ বাড়ছে বলেও জানা গেছে। কুতুবদিয়া উপকূলে আলুভর্তি ট্রলার জব্দের পর এ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহপরীর দ্বীপের নাইক্ষ্যংদিয়া পয়েন্টকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি অপহরণের ঘটনা ঘটছে। সাগরে মাছ শিকার শেষে ফেরার সময় কিংবা গভীর সমুদ্র থেকে ট্রলার নিয়ে টেকনাফের পথে থাকাকালে বিদ্রোহীরা অস্ত্রের মুখে জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় আতঙ্কিত ট্রলার মালিক সমিতি দ্রুত উদ্ধার অভিযান ও ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরাকান আর্মি খাদ্য, প্রয়োজনীয় পণ্য ও অর্থ সংগ্রহের জন্যই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে।
টেকনাফের ট্রলার মালিকদের তথ্যানুযায়ী, ৫ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত আরাকান আর্মি ১০টি ট্রলারসহ ৬৩ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। বিজিবি, জেলে ও ট্রলার মালিকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত নাফ নদ ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২৫০ জন বাংলাদেশি জেলে অপহৃত হয়েছেন। এর মধ্যে বিজিবির প্রচেষ্টায় কয়েক দফায় ১৮৯ জন জেলে ও ২৭টি ট্রলার-নৌকা ফেরত এসেছে।
শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট বোট মালিক সমিতির তথ্যমতে, ৫ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্টের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মোট ৫১ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এখনো পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ না মেলায় জেলে পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। সর্বশেষ ২৬ আগস্ট সাগর থেকে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় ২টি ট্রলারসহ ১১ জন জেলে অপহৃত হন।
ঘটনার বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন জানান, প্রতিদিনই আরাকান আর্মির হাতে জেলে অপহরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত চার দিনে ৬টি ট্রলারসহ ৪৪ জন জেলে নিখোঁজ হয়েছেন বলে ট্রলার মালিক সমিতি জানিয়েছে।
অন্যদিকে কোস্টগার্ড জানিয়েছে, টেকনাফের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে তারা ১৯টি নৌকাসহ ১২২ জেলেকে আটক করেছে। তাদের দাবি, এদের আটক না করলে বিদ্রোহীরা জিম্মি করে নিয়ে যেত।
বর্তমানে আরাকান আর্মির হেফাজতে অন্তত ৫১ জন বাংলাদেশি জেলে রয়েছেন। তাদের নিরাপদে ফেরাতে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “আরাকান আর্মির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ না থাকলেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো জেলেকে অপহরণ না করা হয়।”
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আইসিবি’র বিশেষ তহবিলের মেয়াদ ২০৩২ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি
- সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে শেয়ারবাজারের খান ব্রাদার্স
- মূলধন ঘাটতিতে দুই ব্রোকারেজ হাউজ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- দুই খবরে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারের চমক
- চলতি বছর শেয়ারবাজারে আসছে রাষ্ট্রায়াত্ব দুই প্রতিষ্ঠান
- সাকিবের মোনার্কসহ ৮ ব্রোকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- ২৩ আগস্ট : শেয়ারবাজারের সেরা ৮ খবর
- হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রতারণা, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল ডিএসই
- বিএসইসির নতুন মার্জিন বিধিমালার খসড়া অনুমোদন
- বিমা আইন সংস্কার: বিনিয়োগ ও আস্থায় নতুন দিগন্ত
- তালিকাভুক্ত কোম্পানির ১৫ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা
- কোম্পানির অস্বাভাবিক শেয়ারদর: ডিএসইর সতর্কবার্তা
- শেয়ারবাজারের জন্য সুখবর: কমছে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ
- তিন শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, ডিএসইর সতর্কবার্তা
- শেয়ারবাজারে রেকর্ড: বছরের সর্বোচ্চ দামে ১৭ কোম্পানি