ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে হতে পারে বৈঠক
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক জটিল হলেও দুই দেশ এক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার এই মন্তব্য বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে আলাপ-আলোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই-ও জানিয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জরিমানা হিসেবে ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। এই শুল্কের কারণে ভারতের গয়না, রত্ন, সি-ফুড, পোশাক, চামড়ার মতো একাধিক বাণিজ্যিক খাতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারত এর সমাধান এবং বিকল্প পথ খুঁজতে বদ্ধপরিকর।
স্কট বেসেন্ট ফক্স নিউজকে বলেছেন যে, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বৃহত্তম অর্থনীতি, তাই "দিনের শেষে আমরা এক হব"। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে ভারতই প্রথমে বাণিজ্য চুক্তি পাকা করার বিষয়ে আগ্রহী ছিল, কিন্তু মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য নিজেদের বাজার উন্মুক্ত করতে তারা অনীহা প্রকাশ করেছে। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনাও আলোচনার গতি কমিয়ে দিয়েছে। বেসেন্ট বলেন, "এটা একটা অত্যন্ত জটিল সম্পর্ক... তবে লেবার ডের পরপরই ভারত শুল্ক নিয়ে আলোচনা শুরু করে, কিন্তু এখনো কোনো চুক্তি হয়নি।"
এদিকে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আপত্তি সত্ত্বেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাদের অনড় অবস্থান বজায় রেখেছেন। মোদি বলেছেন, কৃষক ও ক্ষুদ্র শিল্পের স্বার্থের বিরুদ্ধে ভারত কোনো আপোষ করবে না, এমনকি চাপ বাড়লেও তা সহ্য করবে।
যদিও গত ২৫ আগস্ট ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার কথা থাকলেও তা হয়নি, তবে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তারা বস্ত্র রপ্তানিতে উৎসাহ দিতে ৪০টি দেশের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে এবং দেশজ বাজার সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে নতুন মার্কিন শুল্ক ভারতের ৬৬ শতাংশ রপ্তানিকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে পোশাক, গহনা, চিংড়ির চাষ এবং চামড়া শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অনেক কর্মী জীবিকা নিয়ে চিন্তিত। মার্কিন শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ডের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো সুবিধা পাবে।
তবে ভারতের কর্মকর্তারা এবং বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান, গীতাঞ্জলি সিনহা রায় ও এম দাশগুপ্তের মতে, দুই দেশের মধ্যে সংলাপের পথ এখনো খোলা আছে এবং কূটনৈতিক স্তরে চেষ্টা চলছে। ভারত উৎপাদন শিল্পের উপর আরও জোর দিয়ে এবং বিকল্প বাজার তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে বলে তারা মনে করেন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য মোর্শেদ হাসান খানকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন
- প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে ভাইভার সময়সূচি নিয়ে যা জানা গেল
- বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে