ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
চীনে ভয়াবহ বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮
চীনের রাজধানী বেইজিং এবং পার্শ্ববর্তী হেবেই প্রদেশে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জনই বেইজিংয়ের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে।
চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই থেকে বেইজিং এবং চীনের উত্তরাঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও মৌসুমি ঝড় শুরু হয়। এর ফলে সৃষ্ট বন্যায় বেইজিংয়ের মিয়ুন ও ইয়াংকিং জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু মিয়ুন জেলাতেই ২৮ জন এবং ইয়াংকিংয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশী হেবেই প্রদেশে ভূমিধসে আরও চারজন নিহত এবং আটজন নিখোঁজ রয়েছেন। কয়েকটি স্থানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গেছে, যা প্রায় এক বছরের গড় বৃষ্টিপাতের সমান।
টানা বর্ষণে বহু সড়ক ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে ১৩০টিরও বেশি গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং শত শত কিলোমিটার সড়ক নেটওয়ার্ক নষ্ট হয়ে গেছে। বেইজিং শহরের অন্তত ৩১টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি এখনও ব্যবহারের অযোগ্য। উদ্ধারকারীরা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন এবং বুক সমান পানির মধ্য দিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় "সর্বাত্মক অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা" চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং হতাহতের সংখ্যা কমানোর জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে প্রশাসন নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। কেন্দ্রীয় সরকার সড়ক ও বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫৫ কোটি ইউয়ান (৭ কোটি ৬৭ লাখ ডলার) তহবিল ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বেইজিংসহ ৯টি বন্যা কবলিত অঞ্চলের জন্য ৩৫০ মিলিয়ন ইউয়ান এবং রাজধানীর জন্য পৃথকভাবে ২০০ মিলিয়ন ইউয়ান বরাদ্দ করা হয়েছে।
বুধবার চীনের আবহাওয়া দপ্তর বেইজিংয়ে ঝড়-বৃষ্টি বিষয়ক সতর্কতা প্রত্যাহার করলেও, পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে বৃষ্টির মাত্রা কমে এলেও তা আবার বাড়তে পারে। ১৯৫৯ সালে নির্মিত মিউন বাঁধের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে।
এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু ঘরবাড়ি, দোকান এবং সরকারি কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বন্যার পানি এত দ্রুত বেড়েছে যে তারা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবকিছু প্লাবিত হয়ে যায়। ২০২৩ সালেও উত্তর চীনে প্রবল বন্যায় ৮০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- দেশে সোনার দামে বড় পতন
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য মোর্শেদ হাসান খানকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে ভাইভার সময়সূচি নিয়ে যা জানা গেল
- বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে