ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
এবার ইরানের ভেতরেও শুরু হচ্ছে যুদ্ধ?
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা ছিল ইরানে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা মোসাদের গুপ্তচর নেটওয়ার্কের একটি প্রকাশ্য বহিঃপ্রকাশ। এই হামলায় লক্ষ্য করা হয়েছিল ইরানের সামরিক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু বিজ্ঞানীদের পর্যন্ত। মোসাদ এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে এমন সব ব্যক্তির মাধ্যমে, যারা ইরানেরই নাগরিক।
এখান থেকেই শুরু হয়েছে ইরানের ভেতরের আতঙ্ক। কারণ শত্রু যদি বাইরের হয়, তাকে শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সহজ। কিন্তু যখন শত্রু নিজের দেশের ভেতরে, নিজের পরিচয়ে লুকিয়ে থাকে— তখন রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া হয়ে ওঠে আরও কঠোর ও দমনমূলক।
যদিও কার্যকর ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিকে কেন্দ্র করে বিশ্ব সম্প্রদায় কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছে। তবুও ইরানের অভ্যন্তরে এখন এক অদৃশ্য আতঙ্ক বিরাজ করছে। যুদ্ধক্ষেত্রে গোলাগুলি থেমে গেছে ঠিকই, কিন্তু শুরু হয়েছে আরেকটি যুদ্ধ নিজ দেশের মানুষের বিরুদ্ধেই।
বিশ্লেষকদের মতে, 'যুদ্ধ চলাকালে ইরানের নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে ইসরায়েলের প্রবেশ বড় এক ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। মোসাদের সফল অনুপ্রবেশ তেহরানের ভেতরে চরম সন্দেহ ও অবিশ্বাস তৈরি করেছে। এই সুযোগেই সরকার ভিন্নমত দমনে নামে আরও কঠোর হাতে।'
ঙ্গলবার (২৪ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিবিসি পারসিয়ান জানিয়েছে, ইরানের কেরমানশাহ প্রদেশের সরকারি কৌঁসুলি হামিদরেজা কারিমি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, "রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে ১১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন ইউরোপীয় নাগরিক রয়েছেন, যার বিরুদ্ধে সরাসরি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, "আটকদের ছোট একটি অংশ গুপ্তচর সন্দেহে গ্রেপ্তার হলেও, অধিকাংশের অপরাধ হচ্ছে-‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা’, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, বিদেশি সংযোগ রাখা বা সরকারের সমালোচনার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।"
গত কয়েক দিনে অন্তত তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান সরকার। যদিও তাদের পরিচয় বা মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার অভিযোগে দেশজুড়ে আরও ডজনখানেক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই দমননীতিকে আরও আইনগত ভিত্তি দিতে ইরানের পার্লামেন্ট সম্প্রতি একটি সংশোধিত আইন পাস করেছে। এর মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তি সংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে।
ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র বলেন, "আগের আইনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কার্যকর বিচার সম্ভব ছিল না। এখন পার্লামেন্ট আমাদের সেই ক্ষমতা দিয়েছে, যাতে ‘উদাহরণস্বরূপ শাস্তি’ দেওয়া যায়।"
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বলছে, "ইরান সরকার যুদ্ধের আবহকে ব্যবহার করছে ভিন্নমত ও নাগরিক স্বাধীনতা রুদ্ধ করার হাতিয়ার হিসেবে। তারা এটিকে ‘প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ’ নয়, বরং ‘প্রতিশোধমূলক দমননীতি’ বলে অভিহিত করছে।"
প্রসঙ্গত, ইরানে সংস্কারের আহ্বান নতুন নয়। বহুদিন ধরেই সে দাবি উঠে আসছে। তবে বাস্তবতা হলো, দেশটির ইতিহাসে প্রতিটি সংকট শেষ পর্যন্ত আরও কঠোর শাসনের ভিত্তি তৈরি করেছে।
যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ইরান হয়তো বাইরের শত্রুর হাত থেকে কিছুটা নিরাপদ হয়েছে। কিন্তু দেশটির সাধারণ মানুষ এখন নিজেদের দেশেই নতুন এক লড়াইয়ের মুখোমুখি এক শ্বাসরুদ্ধকর, আতঙ্কঘেরা দমন-পীড়নের বাস্তবতায়।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ: সরাসরি দেখা যাবে এখানে LIVE
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ফুটবল ম্যাচ, দেখুন একাদশ-দেখার উপায়
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোর ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ঢাবি শিক্ষককে বিয়ে করলেন দীপ্তি চৌধুরী
- বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের ফুটবল ম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঢাবির এসএম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুস সালাম
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব