×

ঢাকা, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

রোহিঙ্গা গণহ'ত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর

২০২৬ নভেম্বর ০৪ ০৯:০৫:৩৪

রোহিঙ্গা গণহ'ত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলার রায় আগামী ১৯ নভেম্বর ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আদালত এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরের পিস প্যালেসে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় প্রকাশ্য অধিবেশনে রায় ঘোষণা করা হবে। আদালতের প্রেসিডেন্ট বিচারক ইওয়াসাওয়া ইউজি রায় পড়ে শোনাবেন।

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ এই আদালতে মামলাটি ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ নামে পরিচিত। ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর গাম্বিয়া মামলাটি করে। দেশটির অভিযোগ, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান ছিল গণহত্যা।

ওই অভিযানের পর অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছে। জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক তথ্যানুসন্ধান মিশনও ওই অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ সংঘটিত হওয়ার কথা জানিয়েছিল।

তবে মিয়ানমার গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, ওই অভিযান ছিল সন্ত্রাসবিরোধী বৈধ কার্যক্রম।

গাম্বিয়া আদালতের কাছে মিয়ানমারকে গণহত্যা সনদের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ চেয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অপরাধ না ঘটার নিশ্চয়তাও চেয়েছে দেশটি।

১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদের নবম অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে মামলাটি করেছে গাম্বিয়া। ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালত অন্তর্বর্তী আদেশে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সনদে উল্লেখিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংরক্ষণ এবং গৃহীত পদক্ষেপের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

মিয়ানমার আদালতের এখতিয়ার ও মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আপত্তি তুললেও ২০২২ সালের ২২ জুলাই আইসিজে জানায়, মামলাটি শুনতে তাদের এখতিয়ার রয়েছে এবং গাম্বিয়ার আবেদন গ্রহণযোগ্য। পরে উভয় দেশ লিখিত বক্তব্য ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করে।

এ মামলায় গাম্বিয়া ও মিয়ানমারের বাইরে আরও ১১টি দেশ পক্ষভুক্ত হয়েছে। দেশগুলো হলো কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, স্লোভেনিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, বেলজিয়াম ও আয়ারল্যান্ড।

আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণের জন্য শুধু হত্যা বা নিপীড়নের ঘটনা তুলে ধরলেই হয় না। কোনো জাতীয়, নৃতাত্ত্বিক, ধর্মীয় বা বর্ণগত গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ কিংবা আংশিকভাবে ধ্বংস করার সুনির্দিষ্ট অভিপ্রায় ছিল—এটিও প্রমাণ করতে হয়। ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদে এই অভিপ্রায়কে গণহত্যার অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইসিজে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করে। আদালত ব্যক্তির ফৌজদারি বিচার করে না। এর রায় চূড়ান্ত এবং আপিলের সুযোগ নেই।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন এখনো বাস্তবায়িত না হওয়ায় বাংলাদেশের জন্যও মামলাটির রায় গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই রায়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক মূল্যায়ন এবং মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় দায় নির্ধারণের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত