ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিতে ঢাকায় জনসংহতি ও সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) রিগ্লোবাল এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (BWGED) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় জনগণ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, জনজীবন ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই দেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা প্রণয়নে বিদেশি স্বার্থ বা পরামর্শের ওপর এককভাবে নির্ভর না করে বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতা, সক্ষমতা ও জনগণের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, জ্বালানি মহাপরিকল্পনা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নয়, বরং দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা উচিত। এ জন্য পরিকল্পনা প্রণয়নের শুরু থেকেই নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশকর্মী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিতে হবে। পরিকল্পনার খসড়া জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পাশাপাশি উন্মুক্ত আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলিত করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা। তাঁদের মতে, সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ব্যয়, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
কর্মসূচি থেকে সরকারের প্রতি কয়েকটি দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, বিদেশি নির্ভরতার পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থ ও দেশীয় সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, পরিকল্পনার বিষয়ে জনগণের মতামত গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া।
বক্তারা বলেন, দেশের জ্বালানি ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার ও দায়িত্ব বাংলাদেশের জনগণের। তাই জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো জ্বালানি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত নয়। তাঁদের মতে, গণমুখী, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনার মাধ্যমেই দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘জ্বালানি মহাপরিকল্পনা, জাপান না, বিদেশি না। জাতীয় পরিকল্পনায় চাই জাতির অংশগ্রহণ’ স্লোগান দেন। এর মাধ্যমে তাঁরা জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে জাতীয় স্বার্থ, জনগণের অধিকার ও কার্যকর জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- আফগান যুবাদের কাছে হারল বাংলাদেশের যুবারা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা কি অংশ নিতে পারবে? জানুন বিস্তারিত
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত? জেনে নিন
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- নভেম্বরে টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ, যারা পাবেন
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- ১৫ দিনের ব্যবধান দুইবার হবে শারদীয় দুর্গাপূজা
- নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন কবে, জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২১ অক্টোবর)
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- এসএসসির টেস্ট পরীক্ষা ২৮ অক্টোবর থেকে, ফল প্রকাশ ১৫ নভেম্বর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ অক্টোবর)