×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

তালাবদ্ধ বাসা, শাহজালাল রুমির অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৯:৪৩:৪৫

তালাবদ্ধ বাসা, শাহজালাল রুমির অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় আসা শাহজালাল রুমির বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। টঙ্গীর আউচপাড়ায় তাঁর পরিবারের ব্যবহৃত ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ও শ্বশুরের বক্তব্যেও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার শফিউদ্দিন একাডেমি রোডের ১৩০ নম্বর বাড়ির ৭৪/১ হোল্ডিংয়ের ৬/বি নম্বর ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা যায়, সেটি তালাবদ্ধ।

বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার গত শুক্রবার থেকে বাসায় নেই। পরিবারটি ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করত। শাহজালাল রুমি মাঝেমধ্যে সেখানে আসতেন। তত্ত্বাবধায়কের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রুমি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ও পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। তবে তিনি এখন কোথায় আছেন, তা জানা নেই।

শাহজালাল রুমির শ্বশুর মোকারম আলীর কাছেও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নেই। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, রুমি দেশে আছেন, নাকি বিদেশে, তা তিনি জানেন না। তাঁরাও আগের বাসা ছেড়ে বর্তমানে অন্যত্র রয়েছেন।

এদিকে কেউ কেউ দাবি করছেন, শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তবে গত সোমবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিকদের পাঠানো এক খুদেবার্তায় রুমি নিজেই লেখেন, ‘ভাই আমি এই দেশেই আর নাই, সুতরাং আমি এগুলো নিয়ে আর ভাবছি না; যা হয় হোক। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।’

এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, শাহজালাল রুমি দেশে নাকি বিদেশে, তা তাঁর জানা নেই। তবে রুমির বাসায় গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। শিশুটিকে ওই শিক্ষক চুমু দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে চান না।

গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার সাত বছরের এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

পরে শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন। এরপর মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে দায়ের করা পাল্টা মামলায় রুমির বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। এরপর থেকেই তাঁর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত