×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগাম পরিকল্পনায় কমেছে মৃ'ত্যুহার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৮:০৭:৫০

ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগাম পরিকল্পনায় কমেছে মৃ'ত্যুহার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগাম পরিকল্পনা, সমন্বিত উদ্যোগ ও চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের কারণে এ বছর রোগটিতে মৃত্যুহার প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তাঁর দাবি, আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রতি এক হাজার রোগীর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হতো। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি সেমিনার শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান তিনি।

সরকারের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবার চার মাস আগেই এ রোগ মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। প্রায় দুই মাস আগে পূর্বাভাস দিয়ে সতর্ক করা হয়, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে অক্টোবরজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে এবং তা নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ভয়াবহ পরিস্থিতির তুলনায় এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ও রোগের তীব্রতা কম। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে সরকার হালকাভাবে নিচ্ছে না। প্রতিটি মৃত্যুই বেদনাদায়ক। ডেঙ্গুর সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ তুলে ধরে ডা. মুহিত জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রায় এক হাজার তরুণ স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এ ছাড়া প্রতি শনিবার দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। স্কুল-কলেজ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমেও দেশজুড়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ঢাকা ও খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেশি। এসব এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, তাঁদের দল এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মশা ও লার্ভা ধ্বংসে দিনরাত কাজ করছেন।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুহিত বলেন, কেবল আইন প্রয়োগ বা পুলিশের মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ঢাকা এখন বহুতল ভবনে পরিপূর্ণ একটি শহর। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া এসব ভবনে প্রবেশ করতে পারেন না। অথচ ভবনের পার্কিংয়ের পেছনে কিংবা ফেলে রাখা ইলেকট্রনিক পণ্যের কার্টনে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে।

নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের ঘর, ছাদ, বারান্দার টব ও ভবনের নিচতলা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এই সচেতনতা পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে বাবা-মা ও সন্তানদের ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে।

ডেঙ্গুর সম্ভাব্য টিকা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে দুই থেকে তিনটি ডেঙ্গুর টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে প্রায় ৩০টি দেশে মূলত বেসরকারি পর্যায়ে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। সম্প্রতি ভারতেও একটি টিকা বেসরকারিভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর টিকার ব্যাপক ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিজ্ঞানীদের মতামত, ক্লিনিক্যাল তথ্য এবং দেশের মানুষের ওপর টিকার কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। এসব বিষয় পর্যালোচনা না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, টিকা চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার উপায় নয়; বরং এটি ভবিষ্যতে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়। পাশাপাশি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জাপানের উদ্ভাবিত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ নিয়েও কাজ করছে সরকার।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের ৬৪ জেলার মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালের প্রায় দুই হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু চিকিৎসায় পুনঃপ্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এই প্রশিক্ষণ চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে এবং ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার কম রাখতে সহায়তা করেছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত