×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ভোলাকে মূল ভূখণ্ডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে: নৌপরিবহন মন্ত্রী

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ২১:২৬:৩০

ভোলাকে মূল ভূখণ্ডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে: নৌপরিবহন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ভোলার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ করতে এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কাঁচপুর-ইলিশা নৌপথে ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কাঁচপুর ফেরিঘাট এলাকায় ঢাকা-ইলিশা ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকদিন ফেরি চলাচলের পর যাত্রী, ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপ ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে এ রুট নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও সাড়া পাওয়া গেছে। এ কারণে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো, সেবার মান উন্নয়ন, শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার চক্রাকার নৌরুট ও ওয়াটার বাস সার্ভিসকে যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ে নৌযান চলাচল, আরামদায়ক পরিবেশ এবং নৌপথের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করা গেলে এসব রুট আরও জনপ্রিয় হবে। এতে লোকসানও কমানো সম্ভব হবে।

সড়ক যোগাযোগ প্রসঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, বর্ষা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেতুর আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসময় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এটিএম আব্দুল বারী ড্যানী, পরিচালক (প্রশাসন) মো. রবিউল আলম, পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামান, পরিচালক (কারিগরি) ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ হাসেমুর রহমান চৌধুরী ও পরিচালক (অর্থ) শেখ মো. নাসিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে সমতা আনার লক্ষ্যে গত ২৭ আগস্ট থেকে কাঁচপুর-ইলিশা নৌপথে পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি সার্ভিস চালু হয়। বর্তমানে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামের দুটি ফেরি প্রতিদিন উভয় প্রান্ত থেকে চলাচল করছে। একেকটি যাত্রায় সময় লাগছে প্রায় আট ঘণ্টা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরাসরি এ ফেরি যোগাযোগ চালুর ফলে ভোলার পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নতুন এই সার্ভিস চালু হওয়ার ফলে ভোলার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একইসঙ্গে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন বাড়ায় বিআইডব্লিউটিসির রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি কাঁচপুর-ইলিশা ফেরি সার্ভিসকে যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগ হিসেবে দেখছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, এ সার্ভিসের মাধ্যমে দ্বীপ ও দ্বীপাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সম্প্রসারণের পথও তৈরি হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত