×

ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে তর্কের জেরে এসআইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ১১:২৮:০৮

অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে তর্কের জেরে এসআইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাভার মডেল থানাধীন আমিন বাজারের বড়দেশী এলাকায় অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে তর্কের জেরে স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সাভার মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, আমিন বাজারের বড়দেশীর ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসবি ব্রাঞ্চের ডিএমপিতে কর্মরত এসআই মো. আলতাফ হোসেনকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মারামারির পর পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর বিপি নং-৬৮৮৬০৫০৬০০ এবং এসবি আইডি নং-৬২৬৮। তাঁর বাবার নাম জুবায়ের আলী শেখ। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার বাসিন্দা।

আলতাফ হোসেন আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামের মদিনাসিটি এলাকায় স্ত্রী শিউলি পারভিন ও ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পাশেই তাঁর মালিকানাধীন একটি ছোট গার্মেন্টস কারখানা ছিল।

শনিবার রাত ১০টার পর গাড়ি পার্কিং নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে গভীর রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল গার্মেন্টস কারখানাটি ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে। এ সময় আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে বাধা দিলে তাঁদের উপর্যুপরি লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটানো হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতেই আলতাফের মৃত্যু হয়। তাঁর ছেলে আরিফ এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সাভার মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁর নাম জহুরুল ইসলাম (৩০)। তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিন এবং মা রুপবানু। তিনি বড়দেশী গ্রামের বাসিন্দা। ভোর সাড়ে ৪টায় আমিনবাজার টেনারি পুলিশ ফাঁড়ি ও সাভার পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়। আটক আসামি বর্তমানে সাভার মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে আছেন। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা রুজু হয়নি।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিএমপিতে কর্মরত আলতাফ হোসেন আমিন বাজার বড়দেশী এলাকার জনৈক মো. আলামিনের বাসার ভাড়াটিয়া। একই এলাকায় ৫ শতক নিজস্ব জায়গায় তাঁর টিনশেড বাসায় একটি কারখানায় স্বল্প পরিসরে ট্রাউজার ও গেঞ্জি তৈরি করা হয়। ওই কারখানার সামনে কারখানার মালামাল বহনকারী অজ্ঞাতনামা অটোচালকের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কি শুরু হয়। ওই তর্কের জেরে অটোচালক আরও ১৫ থেকে ২০ জন লোক নিয়ে এসে গার্মেন্টসে ভাঙচুর ও হামলা চালায়।

এ সময় আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে মো. আরিফকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে তারা পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীরা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতেই আলতাফের মৃত্যু হয়। তবে তাঁর ছেলে আরিফ চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিহতের কারখানার সামনে গাড়ি পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেছে। গাড়ি চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও এই তর্ক ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা তিন দফা কমার পর দেশের বাজারে আবারও বড় ব্যবধানে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে... বিস্তারিত