ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
নবম পে-স্কেলে পেনশন বাড়বে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: নবম জাতীয় পে-স্কেলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন পাঁচটি স্তরে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে পেনশনের পরিমাণ যত বেশি, বৃদ্ধির হার তত কম। অর্থাৎ কম পেনশনধারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন।
অন্যদিকে বহুল আলোচিত ‘এক পদ এক পেনশন’ বা ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (ওআরওপি) এবারই পুরোপুরি চালু হচ্ছে না। সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের জন্য এটি ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে একজন পেনশনভোগী যে নিট পেনশন পান, সেটিকে ভিত্তি ধরে বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ৯ হাজার টাকা বা এর কম নিট পেনশন হলে বাড়বে ১০০ শতাংশ। ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনধারীদের বৃদ্ধি হবে ৭৫ শতাংশ। ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে বাড়বে ৬৫ শতাংশ।
এ ছাড়া ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে কেউ মাসে ৯ হাজার টাকা নিট পেনশন পেলে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির পর তা দাঁড়াবে ১৮ হাজার টাকা। ২০ হাজার টাকা পেনশন হলে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধিতে হবে ৩৫ হাজার টাকা।
একইভাবে ৩০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তি ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধির পর পাবেন ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা। ৪০ হাজার টাকা পেনশন হলে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির পর তা হবে ৬৪ হাজার টাকা। আর ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনধারীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার হবে ৫৫ শতাংশ।
তবে চূড়ান্তভাবে পেনশনের পরিমাণ নির্ধারণের সময় অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে থাকা নিয়ম, সংশ্লিষ্ট সীমা এবং অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
নতুন কাঠামোয় সবার জন্য একই হারে পেনশন বাড়ানো হচ্ছে না। দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের স্বস্তি দেওয়াই এ ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। ফলে কম পেনশনধারীদের বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম।
সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ চালুর বিষয়টি ছিল। এর লক্ষ্য হলো একই পদ বা গ্রেড থেকে ভিন্ন সময়ে অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের পেনশনের বৈষম্য কমানো।
বর্তমান ব্যবস্থায় একই পদে কর্মরত হলেও ভিন্ন সময়ে অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের পেনশনে বড় পার্থক্য দেখা যায়। অনেক আগে অবসরে যাওয়া কর্মচারী একই পদে বর্তমানে অবসরে যাওয়া ব্যক্তির তুলনায় কম পেনশন পান। ওআরওপি চালু হলে এ বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে।
তবে এখনই পুরো ব্যবস্থাটি চালু করা হচ্ছে না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, সামরিক ও বেসামরিক দুই ক্ষেত্রেই একই সঙ্গে ওআরওপি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। কিন্তু একবারে এটি বাস্তবায়ন করতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। এর সঙ্গে আরও একটি সমস্যা রয়েছে। ২০১৯ সালের আগে অবসরে যাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারের হাতে নেই। ফলে একবারে ওআরওপি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ‘এক পদ এক পেনশন’ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- জেনে নিন একাদশ-আলিমে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের ফল প্রকাশ
- সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ স্থগিত
- নবম পে-স্কেল অনুমোদন, বেতন বাড়ল কত
- আগামী ১০ বছরে যেসব চাকরির চাহিদা বাড়বে, জেনে নিন
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
- শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
- জিয়া উদ্যানের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার শারীরিক সম্পর্ক, ৭ বছরের জেল
- এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর