ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

দ্বিতীয় দফার জলাবদ্ধতায় গাজীপুরে নিঃস্ব হাজারো পরিবার

২০২৬ জুলাই ১২ ১৬:৪৫:৪১

দ্বিতীয় দফার জলাবদ্ধতায় গাজীপুরে নিঃস্ব হাজারো পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় আবারও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। দ্বিতীয় দফার এই জলাবদ্ধতায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষ।

রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে কালিয়াকৈর পৌরসভার হরিণহাটি, বিশ্বাসপাড়া, পল্লীবিদ্যুৎসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোমরসমান পানি পেরিয়ে মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ঘর ছাড়ছেন। অনেকেই সড়কের পাশে, আবার কেউ ভবনের বারান্দা কিংবা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক নাসরিনও তাদেরই একজন। মাথায় একটি ব্যাগ, হাতে কয়েকটি হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে কোমরসমান পানি পেরিয়ে তিনি বাসা ছেড়েছেন। তীব্র জলাবদ্ধতায় তার বসতঘর ডুবে যাওয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন সড়কের পাশে। শুধু নাসরিন নন, একই চিত্র দেখা গেছে আরও বহু পরিবারের মধ্যে।

ডুবে যাওয়া আটশতাধিক ঘরবাড়িতে মানুষের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। কোথাও কোথাও ঘরের বারান্দা পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। বসতবাড়ির পাশাপাশি দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল, মসজিদ ও মাদরাসাও জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এতে ব্যস্ত এই নগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। টানা দুই দিনের জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়া হাজারো মানুষ ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ বারান্দার চালে, আবার কেউ ঘরের ভেতরে খাট উঁচু করে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছেন।

পানিতে ডুবে গেছে এলাকার পানির পাম্প ও টিউবওয়েল। ফলে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। পানিবন্দি মানুষ বোতল ও কনটেইনারে করে বিভিন্ন স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় রান্নাবান্নাও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর পৌরসভার অধিকাংশ বাসিন্দা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জীবিকার তাগিদে এখানে এসে বসবাস করেন। তাদের বড় একটি অংশই তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিক। পুরো এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়ায় অনেকেই অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। এতে একদিকে শ্রমিকের উপস্থিতি কমেছে, অন্যদিকে শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, “গতকাল সকাল থেকে ঘর ডুবে আছে, ঘর ছেড়ে এসেছি। সব মালামাল, চাল ডাল ঘরের ভেতর। কোনোরকম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বের হয়ে চলে এসেছি। ঘর থেকে একটা জিনিস বের করতে পারিনি। ঘরের ভেতর কোমর পানি। এই এক মাসে দুইবার এমন দুর্দশায় পড়লাম। এগুলো দেখবে কে, আমরা তো ট্যাক্স দিয়েই থাকি। পৌরসভার কেউ তো এখন আমাদের খোঁজ নেয় না।”

মুদি দোকানদার মনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার দোকানের সব মালামাল পানিতে ভাসছে। কিছুই বাহির করতে পারিনি। ১৫ দিন আগেও এভাবে ডুবছে দোকান ঠিক করছি। আবারও একই অবস্থা হল।”

পোশাক শ্রমিক নাসরিন বলেন, “৪ বছর ধরে এখানে বসবাস করি। আগে কখনো এমন কষ্ট দেখিনি। এর চেয়ে তো নদী পাড়ের মানুষের জীবন ভালো। গত ১৫ দিন আগে পানিতে ডুবে সব মালামাল নষ্ট হয়েছে, এখন আবারও হল। চাকরি করে কিছু শখের জিনিস কিনেছিলাম সব পানিতে শেষ করে দিল।”

এদিকে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ড্রেনগুলো ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইন।

তিনি বলেন, “দুইদিন আগে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়, আমরা সাথে সাথে প্রধান খালগুলোতে পানি নিষ্কাশনের কাজ করছি। যত ড্রেন, নালা আছে সবগুলোতে আমরা পানি নেমে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। তবে অধিক বৃষ্টির কারণে পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন ভোরে মাত্র দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে আকস্মিকভাবে পৌরসভার এসব এলাকা তলিয়ে যায়। তখন অসংখ্য আবাসিক কলোনি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল ও শিল্পকারখানায় পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। দিনভর পানিবন্দি মানুষ টিনের চাল, সড়কের পাশ ও ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। ওই ঘটনার চার দিন পর পানি নেমে গেলেও এবার আবারও একই দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন তারা।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফের বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন... বিস্তারিত